মনোনয়ন না দেয়ায় দলের প্রতি কষ্ট নেই: রুমিন ফারহানা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ তার প্রার্থিতা অনুমোদন দিয়েছে। মনোনয়ন না পাওয়ায় দলটির প্রতি নিজের কোনো কষ্ট বা ক্ষোভ নেই বলেও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন এই সাবেক সংসদ সদস্য।
শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহানের নেতৃত্বে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। এতে রুমিন ফারহানাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া মোট ১১ জন প্রার্থীর কাগজপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রুমিন ফারহানার মনোনয়নপত্রে কোনো আইনগত বা তথ্যগত ত্রুটি পাওয়া যায়নি। সব শর্ত পূরণ করায় তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও ভোটের মাঠে তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো।
দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে যা বললেন রুমিন
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, “মনোনয়ন না দেওয়ায় দলের প্রতি আমার কোনো কষ্ট বা ক্ষোভ নেই।” তার ভাষায়, বিএনপির দুঃসময়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তিনি যে দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তা অনেক সময় তার বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার তুলনায় বড় ছিল।
তিনি আরও বলেন, দলের দেওয়া প্রতিটি দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছেন। “২০১৮ সালের সংসদে আপনারা আমার ভূমিকা দেখেছেন। ২০১৯ সাল থেকে আমি সংসদে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি,”—বলেন তিনি।
পদত্যাগ ও নতুন নেতৃত্ব প্রসঙ্গ
রুমিন ফারহানা স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দল যখন তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলেছিল, তখন তিনি এক মুহূর্তও দ্বিধা করেননি। “দল যখন বলেছে, আমি সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করেছি,”—বলেন তিনি।
নতুন নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল যদি মনে করে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেটিকে তিনি স্বাগত জানান। “দল যদি মনে করে আমার সেবার আর প্রয়োজন নেই, সেটাও আমি মেনে নিই। আমি আমার রাজনৈতিক পথ নিজ দায়িত্বে চালিয়ে যাব,”—যোগ করেন তিনি।
নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, কিছু এলাকায় তার কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “এরকম কিছু হলে নিশ্চয়ই আমি প্রশাসনকে জানাব।”
তার মতে, যদি কোনো ঘটনা তার নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে বা নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তাহলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচন চলাকালে প্রশাসনের ভূমিকার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপির সাবেক এই নেত্রী অতীতে সংসদে সরব ভূমিকার জন্য পরিচিত ছিলেন। দলীয় পরিচয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি কতটা জনসমর্থন আদায় করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
উপসংহার
দলীয় মনোনয়ন না পেলেও ক্ষোভ প্রকাশ না করে নির্বাচনী মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক অবস্থানকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, বরং দল ও ব্যক্তির সম্পর্কের নতুন বাস্তবতাও তুলে ধরছে।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online.
