ইরানের বিক্ষোভধারী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড আজ কার্যকর হতে পারে

ঢাকা — ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে **২৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানি**কে **মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে** এবং সেটি **আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কার্যকর** হওয়ার পথে আছে বলে দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছেন। ইরান হিউম্যান রাইটস ও অন্যান্য গ্রুপগুলো বলছে, তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও আইনগত সুরক্ষা ছাড়া শাস্তি ধার্য করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সতর্কতা ও নিন্দার সৃষ্টি করেছে। 0

এরফান সোলতানি কে এবং অভিযোগ কী?

এরফান সোলতানি, ২৬, গত সপ্তাহে কারাজ শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময়ে আটক হন। ইরান মানবাধিকার গ্রুপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে “মোহারেবেহ” বা “আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ” করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে — একটি গুরুতর অপরাধ যেটিতে আইরানি শাস্তিমূলক আইনে **মৃত্যুদণ্ড** রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়া “দ্রুত ও অস্বচ্ছ” হিসাবে বিবেচিত হয়েছে এবং তিনি নিজের আইনজীবী বা উপযুক্ত প্রতিরক্ষা পেতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠেছে। 1

আইনি ও মানবাধিকার উদ্বেগ

ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) অফিসের তথ্য বলছে যে সোলতানির মতো মামলাগুলির ক্ষেত্রে **বেসরকারি আইনগত প্রতিনিধিত্ব প্রায় অনুপস্থিত** এবং “অন্যায্য বিচার” করা হচ্ছে। তাঁর পরিবারকে মামলার বিস্তারিত দেখার সুযোগও দেওয়া হয়নি, এবং ভাইকেও আইনি নথিতে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের প্রক্রিয়া মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্বারা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সমাজ তাকে “অবিচারের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করেছে। 2

বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের পটভূমি

এ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও অধিকার সংগঠনগুলো, ইরানে ডেসেম্বরে শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলি মূলত অর্থনৈতিক সংকট, জীবিকা খরচ বৃদ্ধির বিপরীতে শুরু হয়েছিল। পরে তা সরকারের বিরোধিতা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। ইরান সরকার এই বিক্ষোভগুলোকে “বিদেশী ষড়যন্ত্র” ও “সন্ত্রাসী কার্যক্রম” হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোরভাবে দমন করছে, যার ফলে শতাধিক নিহত ও হাজারের গ্রেপ্তার অভিযুক্ত রয়েছে। 3

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এরফান সোলতানির মতো মৃত্যুদণ্ডের খবর সামনে আসার পরই আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি ইরান বিক্ষোভকারীদের **ফাঁসি কার্যকর করে**, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া নেবে ও তেহরানের ওপর আরও চাপ বাড়াবে। এরফানির মৃত্যুদণ্ড সম্ভাব্য কার্যকর হওয়ার খবরটি বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং পশ্চিমাদের তথাকথিত “তুর্কি, ইউরোপীয় ও আমেরিকান” নেতাদের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। 4

মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ

মহামানবাধিকারদাতা গ্রুপগুলো বলছে যে ইরানের দ্রুত ও নিশ্চুপ বিচার ব্যবস্থা, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা ইরানকে **অন্যায্য শাস্তি স্থগিত ও সমালোচিত বিচারপদ্ধতি সংস্কারের** আহ্বান জানাচ্ছে, কারণ বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। 5

উপসংহার

এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর ইরানের বড় বিক্ষোভ আন্দোলনের এক নতুন ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের মুখোমুখি হচ্ছে। এই ঘটনা মানবাধিকার পরিস্থিতি, ন্যায্য বিচার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মনোযোগকে আরও তীব্র করেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি ইরানে নিপীড়িত বিক্ষোভকারীদের ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা উভয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

Next Post Previous Post

Advertisement