বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা খুনিদের সঙ্গে চুক্তি হয় ১৫ লাখ টাকা

যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে অর্থের বিনিময়ে পরিকল্পিতভাবে খুনের চুক্তি হয়েছিল বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে নিহতের জামাতা ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রেকর্ড হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শাহীন কাজী (২৫) নামে এক অভিযুক্ত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বিচারক আছাদুল ইসলাম তার স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

ডিবি পুলিশের তদন্তে যা জানা গেল

ডিবি পুলিশ জানায়, নিহত আলমগীর হোসেনের জামাতা বাসেদ আলী পরশ পারিবারিক বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। তিনি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করেন। এর মধ্যে হত্যার আগে নগদ ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়। বাকি ১৪ লাখ টাকা হত্যার পর পরিশোধ করার কথা ছিল।

তবে হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশের তৎপরতায় বাসেদ আলী পরশ গ্রেপ্তার হওয়ায় পুরো অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন

ডিবি পুলিশের এসআই অলোক কুমার দে জানান, এই হত্যাকাণ্ডে মোট সাতজন অংশ নেয়। তারা তিনটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে যায়। যশোর শহরের শংকরপুর বটতলা এলাকায় আলমগীর হোসেনকে অনুসরণ করে পরিকল্পিতভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

গ্রেপ্তার শাহীন কাজী হত্যামিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। তিনি আদালতে স্বীকার করেছেন যে, পুরো পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাটি সংঘটিত হয়।

গ্রেপ্তার আসামির পরিচয় ও অপরাধ ইতিহাস

পুলিশ জানায়, শাহীন কাজী যশোর শহরের রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি কিসলু কাজীর ছেলে এবং বর্তমানে লোন অফিস পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ তিনটি মামলা রয়েছে।

এছাড়া তিনি যশোরের আলোচিত জুম্মান হত্যা মামলারও এজাহারভুক্ত আসামি বলে নিশ্চিত করেছে ডিবি পুলিশ।

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া

আলমগীর হোসেন যশোর বিএনপির পরিচিত নেতা ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ড স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। দলীয় নেতাকর্মীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক বিরোধ থেকে এমন একটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া সামাজিক অবক্ষয়েরও ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

উপসংহার

ডিবি পুলিশের তদন্তে আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের পেছনের চুক্তি ও পরিকল্পনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্ক উদঘাটন এবং দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলের।

Source: Based on reporting from Desh TV Online

Next Post Previous Post

Advertisement