ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. লিটনের মনোনয়নপত্র বাতিল
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মামলার তথ্য গোপন রাখা ও হলফনামায় ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। যাচাই শেষে ময়মনসিংহ জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মোট ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এর মধ্যে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটনের হলফনামায় নিজের নামে থাকা একটি মামলার তথ্য গোপন করার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
আপিলের ঘোষণা বিএনপি প্রার্থীর
মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটন জানান, তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন।
ত্রিশাল আসনে আরও প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
ময়মনসিংহ-৭ আসনে দাখিল করা ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে মোট ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাতের মনোনয়ন বাতিল করা হয় ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সঠিক না পাওয়া, হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকা এবং দুটি মামলার তথ্য গোপনের কারণে।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয় অঙ্গীকারনামা ও কর্মরত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ না করার কারণে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল মুনসুরের মনোনয়ন বাতিল হয় ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সঠিক না পাওয়া এবং আয়কর রিটার্ন ও সম্পদের বিবরণ না দেওয়ায়।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয় ভোটার সমর্থনের ত্রুটির কারণে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল কদ্দুসের মনোনয়ন বাতিল হয় ২০০২ সালের একটি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ না করায়।
অন্যান্য আসনের অবস্থা
একই দিনে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং একজনের বাছাই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। বিএনপি মনোনীত দাবি করলেও দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় মো. সাইফুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকীর মনোনয়ন বাতিল হয় ঋণ খেলাপি থাকার কারণে। স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর আহমেদ রানার সম্পদ ও আয়কর রিটার্নে তথ্য বিভ্রাট এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে তার বাছাই কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।
এর আগে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে হলফনামায় সম্পদের বিবরণ না দেওয়ায় বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী লিয়াকত আলী এবং আয়কর রিটার্নে তথ্য ঘাটতির কারণে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী হামিদুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার বক্তব্য
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, বিভিন্ন ধরনের ত্রুটির কারণে ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
Source: Dhaka Post
