ভেনেজুয়েলা-গ্রিনল্যান্ডের পাশাপাশি কানাডাও কি ট্রাম্পের নজরে!
ওয়াশিংটন — ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্যের পর এবার কানাডা নিয়েও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তুলছে। সরাসরি দখলের কথা না বললেও, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সম্পদ ইস্যুতে কানাডাকে ঘিরে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কেন কানাডা আলোচনায়
ট্রাম্প বরাবরই কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ককে “অন্যায্য” বলে আখ্যা দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান পরিচিত। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যে কানাডার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যা অনেকের চোখে রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল।
গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ
গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প আগেই ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন ও জ্বালানি সম্পদ নিয়ে মার্কিন আগ্রহ দীর্ঘদিনের। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই ঘটনার প্রেক্ষাপটে কানাডাকে নিয়ে মন্তব্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে।
কানাডার প্রতিক্রিয়া
কানাডা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিলেও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে। অটোয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কানাডা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও চুক্তির ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এসব মন্তব্য মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের সামনে শক্ত অবস্থান দেখানো এবং “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতিকে পুনরুজ্জীবিত করাই এর লক্ষ্য হতে পারে। তবে এ ধরনের বক্তব্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।
ভূরাজনৈতিক প্রভাব
উত্তর আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল। কিন্তু ট্রাম্পের কড়া ভাষা ও আগ্রাসী কৌশল যদি বাস্তব নীতিতে রূপ নেয়, তাহলে তা বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং কূটনীতিতে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপসংহার
ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ডের পর কানাডাকে ঘিরে ট্রাম্পের বক্তব্য সরাসরি কোনো পদক্ষেপের ইঙ্গিত না দিলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অস্বস্তি তৈরি করেছে। এসব মন্তব্য বাস্তব নীতিতে রূপ নেয় কি না, নাকি রাজনৈতিক কৌশলেই সীমাবদ্ধ থাকে—তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথের ওপর।
