হ্যান্ডকাফ নিয়েই পালালো আবু সাইদ হত্যা মামলার আসামি
রংপুরের পীরগাছায় পুলিশের হেফাজত থেকে শহীদ আবু সাইদ হত্যা মামলার এক আসামির নাটকীয়ভাবে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট এই হত্যা মামলার পলাতক আসামি নাহিদ হাসান লিটনকে আটকের পর পুলিশি হেফাজত থেকেই পালিয়ে যেতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পীরগাছা থানা পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে নাহিদ হাসান লিটনকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তিনি রংপুর জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নানের ছেলে। পুলিশ জানায়, তিনি শহীদ আবু সাইদ হত্যা মামলার একজন অভিযুক্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।
আটকের পর উত্তপ্ত পরিস্থিতি
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের পরপরই নাহিদ হাসান লিটনের হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। এ সময় তার পরিবারের সদস্য এবং আশপাশের কয়েকজন নারী পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নারী একত্রিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যান নাহিদ হাসান লিটন। এলাকাবাসীর দাবি, পালানোর সময় তিনি হ্যান্ডকাফ পরিহিত ছিলেন এবং শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে আরও আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
হ্যান্ডকাফ উদ্ধারে আশ্বাস, বিভ্রান্তি অব্যাহত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পালানোর সময় ব্যবহৃত হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের বিষয়ে এলাকার এক যুবনেতা পুলিশকে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। ঘটনার পর থেকে এলাকায় নানা ধরনের গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী দম্পতি বলেন, “মাগরিবের নামাজের পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য লিটনের বাড়িতে আসেন। কিছুক্ষণ পর হইচই শুনে সামনে গিয়ে দেখি, পুলিশ তাকে ধরে রেখেছে। তার হাতে হ্যান্ডকাফ ছিল। এরপর কয়েকজন নারী পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যেই সে পালিয়ে যায়।”
পুলিশের বক্তব্য: পালিয়েছে, তবে হ্যান্ডকাফের দাবি অস্বীকার
পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম আসামি পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি হ্যান্ডকাফ পরিহিত থাকার দাবিকে গুজব বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “আসামি পালিয়েছে—এটা সত্য। কিন্তু সে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় ছিল—এমন তথ্য সঠিক নয়।”
পুলিশ সূত্র জানায়, পলায়নের পরপরই তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণ তদন্ত শুরু হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হত্যা মামলার মতো একটি স্পর্শকাতর ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি পলায়নের ঘটনা নয়, বরং এটি স্থানীয় পর্যায়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবনার দাবি রাখে। দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তই এখন জনগণের আস্থা ফেরানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online
