ইরান বলছে হামলা হলে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই থাকবেই

ঢাকা — ইরানি শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র বা কোনো বাহ্যিক শক্তি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা করে,” তাহলে তারা **শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত প্রতিরোধ করবে**। এই মন্তব্য ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দেয় এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা দশাকে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কিনো এই হুঁশিয়ারি?

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যে বলেছেন, “কোনও বাহ্যিক আগ্রাসন হলে ইরান তার সার্বভৌম ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে।” তিনি এই অবস্থানকে ব্যাখ্যা করতে বলেন, “আমরা আমাদের মাটিতে ও জনগণের নিরাপত্তায় সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা করতে প্রস্তুত, এবং এখানো পর্যন্ত কখনও পিছপা হইনি।”

প্রেক্ষাপট: বিপর্যয়ের সম্ভাবনা

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তার কঠোর দমন এবং আন্তর্জাতিক চাপের মাঝেই এই রূঢ় প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন, সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা ও হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ মনে করেন, “বহিরাগত হস্তক্ষেপ” তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেবে।

সামরিক কৌশল ও পরিকল্পনা

ইরান পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডে অবস্থিত এবং সেখানে উপস্থিত তার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আধা-সামরিক বাহিনীকে (যেমন কুদস ফোর্স, আঞ্চলিক শাখা) দ্রুত মোতায়েন করার ক্ষমতা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান তার সেনাবাহিনী, বিমান প্রতিরক্ষা ও মিসাইল শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যে কোন আক্রমণের প্রতিক্রিয়া দিতে পারে। এটি কেবল সরাসরি হামলা প্রতিরোধ নয়, বরং জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণসহ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, “এ ধরনের হুঁশিয়ারি ও প্রতিশোধমূলক ভাষা যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ায়। পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধান ও আলোচনাই উত্তেজনা প্রশমনের একমাত্র পথ।”

আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিকটি

ইরানের এই প্রতিক্রিয়া শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলবে। বিশেষত যদি পারস্য উপসাগরীয় জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয় বা প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম এশিয়ায় আরও মিলিশিয়া সক্রিয় হয়ে উঠে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি দাম বাড়তে পারে এবং সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে।

উপসংহার

“শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই” ইরানের প্রতিক্রিয়া একটি কঠোর নিরাপত্তা বক্তব্য হলেও, বাস্তবে উত্তেজনা প্রশমিত করা, কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করা একান্ত প্রয়োজন। বিশ্ব নেতারা পুনরায় আলোচনার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, যে কোন সামরিক উত্তেজনা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক।

Next Post Previous Post

Advertisement