জামায়াত নেতা শাহাজাহান চৌধুরীকে শোকজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। একই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ের আরও একজন জামায়াত নেতাকেও শোকজ করা হয়েছে।
বুধবার সকালে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান রূপণ কুমার দাশ এই নোটিশ জারি করেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
কেন দেওয়া হলো শোকজ নোটিশ
নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জানুয়ারি লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি প্রীতিভোজে অংশ নেন জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। ওই অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতিতে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. জসিম উদ্দিন প্রকাশ্যে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চান।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নজরে আসার পর নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ এনে বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী। অভিযোগ যাচাইয়ের পরই শোকজ নোটিশ জারি করা হয় বলে জানা গেছে।
কাকে কবে হাজির হতে বলা হয়েছে
শোকজ নোটিশে শাহজাহান চৌধুরীকে আগামী সোমবার বেলা ১১টায় নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যানের অস্থায়ী কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বড়হাতিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. জসিম উদ্দিনকেও পৃথকভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা, জরিমানা বা পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতীক বরাদ্দের আগেই ভোট চাওয়া স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছে এবং তাদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য।
জামায়াত নেতার প্রতিক্রিয়া
বড়হাতিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. জসিম উদ্দিন অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তিনি ওই অনুষ্ঠানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়েছিলেন—এটি সত্য। তবে এটি যে আচরণবিধির লঙ্ঘন হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি তখন অবগত ছিলেন না।
তিনি জানান, নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি তারা জেনেছেন এবং জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে লিখিত জবাব দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রভাব
চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার অংশ নিয়ে গঠিত এবং বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়ছে, যা প্রশাসনের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এই শোকজ নোটিশ নির্বাচনী মাঠে সব প্রার্থীর জন্য একটি বার্তা—নির্ধারিত নিয়মের বাইরে গেলেই আইনি পদক্ষেপ আসতে পারে। আগামী দিনে এই ঘটনায় কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।
Source: Based on reporting from দেশ টিভি
