বাকি ৪৭ আসনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে যে সিদ্ধান্ত জানালো জামায়াত

বাকি ৪৭ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত নয়, সিদ্ধান্ত লিয়াজোঁ কমিটির সুপারিশে: জামায়াত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাকি থাকা ৪৭টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট। এসব আসন নিয়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব লিয়াজোঁ কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

শনিবার বিকেলে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

৪৭ আসন নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপট

গত বৃহস্পতিবার রাতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ২৫৩টি আসনে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে। তবে ওই ঘোষণায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থিতা বা জোটে তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। সে সময় ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

পরদিন বিকেলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হয়, যখন জানা যায় যে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এই জোটে থাকছে না। এর ফলে বাকি ৪৭টি আসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

লিয়াজোঁ কমিটির দায়িত্ব

সংবাদ সম্মেলনে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, প্রার্থী নিশ্চিত না হওয়া ৪৭টি আসনের বিষয়ে লিয়াজোঁ কমিটি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। আলোচনা শেষে তারা একটি প্রস্তাব পেশ করবেন, যার ভিত্তিতে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জোটের ভেতরে সমন্বয় বজায় রেখে নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

জোটের বর্তমান আসন বণ্টনের চিত্র

এখন পর্যন্ত ১০ দলীয় জোটের মধ্যে আসন বণ্টনের যে চিত্র সামনে এসেছে, তাতে ১৭৯টি আসনে জামায়াত, ৩০টি আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি এবং খেলাফত মজলিস ১০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

এছাড়া এলডিপি ৭টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি, এবি পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি আসনে প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

নির্বাচনি কৌশল ও রাজনৈতিক তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাকি ৪৭ আসন নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকায় জোট রাজনীতিতে কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন জোটের বাইরে থাকায় এসব আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লিয়াজোঁ কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই জোটের নির্বাচনি শক্তি ও মাঠপর্যায়ের প্রভাব।

Source: Based on reporting from national political desk and party briefings

Next Post Previous Post

Advertisement