নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী

নোয়াখালী-৫ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এলো। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্বের অনুরোধে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসনা মওদুদ নিজেই। নোয়াখালী-৫ আসনটি কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত—যা দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত।

তারেক রহমানের অনুরোধেই সিদ্ধান্ত

দৈনিক আমার দেশ-কে দেওয়া বক্তব্যে হাসনা মওদুদ জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সম্মান রেখেই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। রোববার গুলশানে দলের কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাসনা মওদুদের ভাষায়, “সাক্ষাতে নোয়াখালী-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন না করার জন্য তিনি আমাকে অনুরোধ করেন। দলের চেয়ারম্যানের প্রতি শ্রদ্ধা ও দলীয় শৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করেই আমি আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ঘিরে আলোচনা

হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া শুরু থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট অঞ্চলে তার দীর্ঘদিনের গ্রহণযোগ্যতার কারণে অনেকেই তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখছিলেন।

মনোনয়নপত্র দাখিলের পর এলাকায় তার পক্ষে কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতাও চোখে পড়ে। ফলে শেষ মুহূর্তে তার সরে দাঁড়ানো নির্বাচনী মাঠে নতুন হিসাব-নিকাশ তৈরি করেছে।

দলীয় ঐক্য রক্ষার বার্তা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাসনা মওদুদের সিদ্ধান্ত বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঐক্য রক্ষার একটি বার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থিতা নিয়ে যে বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত তা কিছুটা প্রশমিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

একজন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক জানান, “নোয়াখালী-৫ আসনে দলীয় ভোট বিভক্ত হলে বিএনপি ক্ষতির মুখে পড়তে পারত। হাসনা মওদুদের সরে দাঁড়ানো দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।”

নোয়াখালী-৫ আসনের রাজনৈতিক গুরুত্ব

নোয়াখালী-৫ আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই বিএনপির প্রভাববলয় হিসেবে পরিচিত। প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ একাধিকবার এই এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ফলে তার পরিবারের সদস্যের প্রার্থিতা স্থানীয়ভাবে আবেগ ও প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছিল।

হাসনা মওদুদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ফলে এখন এই আসনে বিএনপির জোট প্রার্থীর অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ তৈরি হলো।

উপসংহার

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দিয়ে হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদের সরে দাঁড়ানো বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল ও শৃঙ্খলার দিকটি সামনে এনেছে। নোয়াখালী-৫ আসনে এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার গতিপথে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Source: Based on reporting from দৈনিক আমার দেশ (Amar Desh).

Next Post Previous Post

Advertisement