জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি বরদাশত করা হবে না
জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সমাজে কেউ যদি নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে, তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বগুড়ায় এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
বগুড়ায় নির্বাচনী জনসভা
বগুড়া জেলা ও শহর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ওই জনসভা অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বগুড়া অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, নারীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তাদের নিরাপদ চলাচল ও সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তার ভাষায়, নারীরা পুরুষদের পাশাপাশি যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবেন।
বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে বগুড়ায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়। তার দাবি, দলটি অতীতেও চাঁদাবাজিতে জড়ায়নি এবং ভবিষ্যতেও এমন কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেবে না।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে সরকারি অর্থ আত্মসাত বন্ধ করা হবে এবং যারা জনগণের টাকা পাচার করেছে, তা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ ও রাজনৈতিক বার্তা
জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তাদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ। জনগণ যদি জামায়াতে ইসলামীকে সুযোগ দেয়, তবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিভক্ত নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়। অতীতে দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
যুবসমাজ ও কর্মসংস্থান
যুবকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত বেকারত্বকে ভাতা দিয়ে নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সমাধান করতে চায়। যুবকদের কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
ভোটের আহ্বান
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে বগুড়া জেলার সাতটি সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
Source: Based on reporting from Desh TV
