গাজায় নির্মাণ করা হবে ১৮০ আকাশচুম্বী ভবন: ট্রাম্পের জামাতা কুশনার
ওয়াশিংটন/তেলআবিব — গাজা উপত্যকায় ব্যাপক পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৮০টি আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কুশনারের প্রস্তাব
এক বক্তব্যে কুশনার বলেন, গাজাকে একটি আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা। তাঁর ভাষায়, “গাজার ভৌগোলিক অবস্থান ও উপকূলীয় সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সেখানে উচ্চমানের আবাসন, বাণিজ্যিক ভবন ও পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।”
পরিকল্পনার কাঠামো
প্রস্তাবিত প্রকল্পে আবাসিক টাওয়ার, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, হোটেল ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুশনার দাবি করেন, এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং গাজার অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী হতে পারে।
সমালোচনা ও বিতর্ক
তবে এই পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র সমালোচনা উঠেছে। ফিলিস্তিনি নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক সমাধান ও মানবাধিকার নিশ্চিত না করে কেবল অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বলা বাস্তবতা-বিবর্জিত। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, চলমান সংঘাত ও অবরোধের প্রেক্ষাপটে এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে স্থানীয় জনগণের মতামত ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা অপরিহার্য।
বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, কুশনারের এই বক্তব্য মূলত একটি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে বাস্তবে শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সমাধান ছাড়া এমন পরিকল্পনা টেকসই হবে না।
উপসংহার
গাজায় ১৮০টি আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের প্রস্তাব ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় কল্পনার কথা বললেও, বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বহু রাজনৈতিক, মানবিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নির্ভর করবে মাঠের বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের ওপর।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা
