লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, অবৈধ অস্ত্র এখনো সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে আয়োজন করা সম্ভব নয় এবং এতে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এই রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাব মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে
রিট পিটিশনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি।
রিটকারী আইনজীবীর দাবি, এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র দীর্ঘদিন ধরে উদ্ধার না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
রিটে বলা হয়েছে, অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ উসমান হাদির সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর বক্তব্যের উল্লেখ করে রিটে বলা হয়, তিনি নিজেও নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারকে অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন।
সংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
রিট পিটিশনে আরও বলা হয়, সরকার কিছু সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও দেশের সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা ‘জীবনের অধিকার’-এর সরাসরি লঙ্ঘন হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে নির্বাচন আয়োজন করলে তা আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
রিটে কী নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে
রিটে হাইকোর্টের কাছে লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এবং একটি নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
উপসংহার
লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার ও নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে এই রিট নতুন করে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আইনগত ও রাজনৈতিক আলোচনা জোরালো করেছে। হাইকোর্ট রিটটি গ্রহণ করেন কি না এবং এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দেন, তার ওপর নির্ভর করবে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
