সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকের দুই মেয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
দুর্নীতির অনুসন্ধান চলাকালে সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকের দুই মেয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের দুই মেয়ে সাদিয়া মালেক ও সিনথিয়া মালেকের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়, যা চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধান প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থেই এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
দুদকের আবেদনের পটভূমি
এদিন দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মাহাথীর মুহাম্মদ সামী আদালতে আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে বলা হয়, সাদিয়া মালেক ও সিনথিয়া মালেক দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণী বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় রয়েছে। অনুসন্ধান চলাকালে নথি নিরীক্ষা ও গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন।
দুদকের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকের সহযোগিতায় তার দুই মেয়ে বিদেশে চলে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তাই তদন্তের স্বার্থ রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ নিশ্চিত করতে তাদের বিদেশযাত্রা সাময়িকভাবে বন্ধ করা জরুরি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
আবেদনের শুনানি শেষে আদালত দুদকের যুক্তিকে গ্রহণযোগ্য মনে করে সাদিয়া মালেক ও সিনথিয়া মালেকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাধারণত তখনই দেওয়া হয়, যখন তদন্তকারী সংস্থা আশঙ্কা করে যে অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে গিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন।
দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের একাধিক সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে সক্রিয় হয়েছে দুদক। সম্পদ বিবরণী যাচাই, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে একাধিক মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে একটি বার্তা দিচ্ছে যে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়তে পারে।
পরবর্তী করণীয়
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সম্পদ বিবরণী যাচাই শেষ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ বা অতিরিক্ত নথিপত্র সংগ্রহ করা হতে পারে।
এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত শেষে দুদক কী ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
