‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে পারবে না
‘হ্যাঁ’ ভোটে জয় এলে দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানো যাবে: ধর্ম উপদেষ্টা
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে দেশে আর কোনো সর্বগ্রাসী ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের যে চেতনা নিয়ে মানুষ রাজপথে নেমেছিল, সেই চেতনাই গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।
সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গণভোটের প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
গণভোট ও রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সংবিধানের কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনতে হলে তা জনগণের সরাসরি মতামতের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত। গণভোট সেই সুযোগ সৃষ্টি করে। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এই গণভোটকে কোনো দলীয় কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং একটি জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে দেখছে। সে কারণে সংশ্লিষ্ট সবাই নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভোটাধিকার রক্ষায় জনগণের প্রতি আহ্বান
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. খালিদ হোসেন জনগণের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটের দিন শুধু ভোট দেওয়াই যথেষ্ট নয়, ভোটের বাক্স পাহারা দেওয়ার দায়িত্বও নাগরিকদের নিতে হবে। তাঁর মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে কোনো অনিয়ম বা চাপ প্রয়োগের সুযোগ না থাকে।
জুলাই যোদ্ধাদের মর্যাদা ও সরকারের অবস্থান
ধর্ম উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁরা দেশের বিবেক ও হৃদয়ের স্পন্দন। তাঁদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, জুলাই যোদ্ধাদের উপযুক্ত মর্যাদা ও স্বীকৃতি দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁদের অবদান স্মরণে রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ক্ষমতা হস্তান্তর ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন শেষে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা উল্লেখ করে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ক্ষমতায় থাকা নয়, বরং একটি গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে এবং দেশ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে। তাঁর ভাষায়, “আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই, যেখানে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তব্য
হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন খাতুন, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল হক সরকার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার মাহমুদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকসহ অন্যান্য অতিথিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা গণভোট ও নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Source: Based on reporting from Jagonews24
