ময়মনসিংহ-৭ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপির ডা. লিটন
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটন। নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগের রায়ে তাকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হলে এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দেয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্তকে বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে ডা. লিটনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। বিকেল ৩টার দিকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আপিল শুনানিতে ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটনের দাখিল করা কাগজপত্র ও ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে কমিশন তার পক্ষে রায় দেয়। এর মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার আগের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায় এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।
ডা. লিটন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে তার প্রার্থিতা বাতিল ও পুনর্বহালের বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
‘সত্যের জয়’ বলে মন্তব্য
আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ডা. লিটন বলেন, “নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সত্যের জয় হয়েছে। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত বিজয় নয়, এটি ত্রিশালবাসীর বিজয় এবং ধানের শীষের বিজয়।” তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাটি ছিল মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত স্বৈরাচার সরকার ওই মামলাটি প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় এবং তিনি মামলাটি থেকে অব্যাহতি পান। তবে ভুলবশত হলফনামায় ওই মামলার তথ্য উল্লেখ না করায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। আপিলে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ায় কমিশন তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
ঐক্যের আহ্বান
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ঐক্যের আহ্বান জানান ডা. লিটন। তিনি বলেন, অতীতের সব বিভেদ ভুলে সবাইকে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির পক্ষে একযোগে কাজ করতে হবে। তার মতে, দলীয় ঐক্য বজায় থাকলে ত্রিশালে বিএনপি একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবরে এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশা করছেন, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রচারণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রার্থিতা বাতিলের পেছনের ঘটনা
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ডা. লিটনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। অভিযোগ ছিল, হলফনামায় নিজের নামে থাকা একটি মামলার তথ্য তিনি গোপন করেছেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।
শেষ পর্যন্ত আপিল বিভাগের রায়ে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের আপিল প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা এবং প্রার্থীদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
