প্রবাসীর ভোটেই উল্টে যেতে পারে দক্ষিণ চট্টগ্রামের নির্বাচনের ফল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন এক মাত্রা যোগ হয়েছে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ। এবারই প্রথম দেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রায় ৪০ হাজার প্রবাসী ভোটার এই পদ্ধতিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটগুলো অনেক আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করেছে। প্রবাসীদের এই অংশগ্রহণকে এবারের নির্বাচনের অন্যতম ব্যতিক্রমী দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রবাসী নিবন্ধনের চিত্র

নির্বাচন কমিশনের পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে। এখানে নিবন্ধনের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩০১ জন। এর পর রয়েছে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন, যেখানে নিবন্ধন করেছেন ৬ হাজার ৭৬৩ জন প্রবাসী ভোটার।

অন্য আসনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও) আসনে ৫ হাজার ৬০৫ জন, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া) আসনে ৫ হাজার ২৮৪ জন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে ৩ হাজার ২১৯ জন এবং চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ৩ হাজার ২০১ জন প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। সংখ্যার দিক থেকে পটিয়া আসনে নিবন্ধন তুলনামূলক কম হলেও ভোটের ব্যবধান কম হলে এখানেও প্রবাসী ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভোটের প্রক্রিয়া ও সময়সূচি

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতীক বরাদ্দের পর নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারদের ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। ভোটাররা ব্যালট পূরণ করে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরত পাঠাবেন। এসব ব্যালট ভোটের আগেই দেশে পৌঁছাতে হবে, যাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন অন্যান্য ভোটের সঙ্গে একসঙ্গে গণনা করা যায়।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাকে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য করতে প্রতিটি ধাপে সময়ানুবর্তিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব

গত জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকার কথা রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে অনেকেই মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের রাজনৈতিক পছন্দ স্থানীয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপি ও জামায়াতসহ কয়েকটি দলের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে প্রবাসে সফর করেছেন এবং প্রবাসী ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার-প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।

প্রবাসীদের প্রত্যাশা ও অভিজ্ঞতা

সৌদি আরবপ্রবাসী মোহাম্মদ মুরাদ, যিনি চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের ভোটার, বলেন—পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত। তার ভাষায়, বহু বছর ভোটার হলেও এবারই প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগের বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে।

একই আসনের আরেক প্রবাসী ভোটার, কাতারপ্রবাসী শাহাদাত হোসেন বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে তিনি জোর দেন স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর। এসব নিশ্চিত করা গেলে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতেও টেকসই হবে বলে তিনি মনে করেন।

শেষ পর্যন্ত কী হবে

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অনেক আসনেই প্রবাসী ভোটের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে। নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, এসব ভোট শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারির ফলাফল পর্যন্ত। তবে এটুকু নিশ্চিত, প্রবাসীদের অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

Source: Based on reporting from Amar Desh and data from the Election Commission’s postal ballot registration records.

Next Post Previous Post

Advertisement