গাজা পরিচালনায় ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণা, নেই কোনো মুসলিম

ওয়াশিংটন — সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা অঞ্চলের পরিচালনা ও পুনর্গঠন কাজে সহায়তার জন্য যে **‘বোর্ড অব পিস’** গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, তাতে **কোনো মুসলিম সদস্য নেই** বলে খবর নিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভিন্নমতের সাথে জড়িত বহু বিশ্লেষকের উদ্বেগ ও সমালোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কী ঘোষণা করলেন ট্রাম্প?

ট্রাম্প اعلان করেছেন, গাজার নিয়ন্ত্রণ, পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক বোর্ড গঠন করা হবে, যার কাজ হবে গাজায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ওই বোর্ডে বিভিন্ন দেশ ও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যারা রাজনৈতিক ও মানবিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে সহায়তা করবে।

তবে মুসলিম সদস্য নেই কেন?

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘোষিত বোর্ডে কোনো মুসলিম দেশ বা প্রতিনিধি না থাকায় তা মুসলিম বিশ্বের অংশগ্রহণহীন একটি উদ্যোগ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। মিশর, জর্ডান বা সৌদি আরবের মতো যারা ঘনিষ্ঠভাবে গাজা ইস্যুতে যুক্ত, তাদের নাম ঘোষিত সদস্য তালিকায় নেই। এই অভাব অনেকেই “বিশ্বায়িত সমাধান” হিসেবে বোর্ডের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

আঞ্চলিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “গাজা ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।” তারা মনে করছেন, মুসলিম প্রতিনিধিত্ব না থাকলে বোর্ডের সিদ্ধান্তগুলো **আঞ্চলিক সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা** পাবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান

ট্রাম্পের সমর্থকরা বলছেন, বোর্ডে সদস্যদের নির্বাচন ছিল “ক্ষমতা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে”, এবং এটি নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সক্ষম সদস্যদের সমন্বয় ঘটাবে। তারা দাবি করছেন, মুসলিম সদস্য না থাকলেও বোর্ড মানবিক ও প্রশাসনিক কাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

মুসলিম বিশ্বের উদ্বেগ

বিশেষ করে ফিলিস্তিনি সমর্থক গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছেন, গাজার পরিস্থিতি শুধু প্রশাসনিক বা মানবিক ইস্যু নয়—এটি একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইস্যুও বটে। তাই মুসলিম বিশ্বের কণ্ঠস্বর বোর্ডে থাকা উচিত, যাতে বর্ণ, ধর্ম বা সংস্কৃতির প্রতি আরও সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজার মতো ইস্যুতে সফল প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের জন্য **বৈচিত্র্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব জরুরি**। শুধুমাত্র পশ্চিমা বা অন্যায় রাজনৈতিক শক্তির প্রতিনিধিরাই যদি বোর্ডে থাকেন, তা প্রাদেশিক সমাধানকে কঠিন করে তুলতে পারে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।

উপসংহার

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন উদ্যোগকে মানবিক সহায়তা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের একটি সম্ভাব্য কাঠামো হিসেবে দেখা হলেও, মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্বহীনতা এই উদ্যোগকে বিতর্কিত করে তুলেছে। সত্যিকারের স্থায়ী শান্তি ও সমাধান আনতে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও আঞ্চলিক স্বার্থের সমন্বয় অপরিহার্য বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

Next Post Previous Post

Advertisement