সেই আবেদ আলীর ‘সহযোগী’ পুলিশ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
ঢাকা—বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলায় নতুন অগ্রগতি এসেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে আবেদ আলীর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত পুলিশ ক্যাডারের এক কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ জারি করা হয়।
আদালতের আদেশ
ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ রোববার মো. জাকারিয়া রহমান নামে ওই পুলিশ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশে স্বাক্ষর করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মো. জাকারিয়া রহমান বর্তমানে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে কর্মরত রয়েছেন এবং তিনি ৩০তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার ধাওড়া গ্রামে।
দুদকের আবেদনের যুক্তি
দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আল-আমিন আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, সৈয়দ আবেদ আলীর জীবদ্দশায় তার সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব লেনদেনের সঙ্গে জাকারিয়া রহমানের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ তদন্তে উঠে এসেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাকারিয়া রহমান একটি সংঘবদ্ধ প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। পাশাপাশি তিনি দেশ ত্যাগের চেষ্টা করছেন—এমন তথ্য পাওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবেদ আলী মামলার পটভূমি
২০২৪ সালের ৮ জুলাই সৈয়দ আবেদ আলীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আবেদ আলীর বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রায় ৪৫ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর একাধিক ধারায় মামলা করা হয়।
তদন্তের স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা
দুদক আবেদনে উল্লেখ করে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এই পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি দেশত্যাগ করলে তদন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে জাকারিয়া রহমানের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ জরুরি হয়ে পড়ে।
আদালত দুদকের যুক্তি আমলে নিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাকারিয়া রহমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।
সমাপনী বিশ্লেষণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আদেশ দুর্নীতিবিরোধী মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে দুদক যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তা ভবিষ্যতে মামলাটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online
