গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী করতে সারা দেশে ‘অ্যাম্বাসেডর’ নামাচ্ছে এনসিপি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী বিশেষ প্রচার কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। দলটি আসনভিত্তিক অ্যাম্বাসেডর বা প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন এবং ভোট প্রদানের জন্য উৎসাহিত করবে।
দলীয় প্রস্তুতি ও নেতৃত্ব
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই দল গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে প্রচারণা শুরু করবে। অ্যাম্বাসেডররা নির্বাচনী প্রার্থী নন এবং মূল কাজ হবে জনগণকে বোঝানো কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রয়োজন এবং এটি জয়ী হওয়া জরুরি।
সংসদ নির্বাচন ও জোট সমন্বয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৩০টি আসনে সমঝোতার আলোচনা চলছে, যদিও চূড়ান্ত আসন বণ্টন এখনও হয়নি। দল জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৪৪টি আসনে প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হলে নিজ দলের প্রার্থীরা সরিয়ে দিয়ে জোট প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে কাজ করবেন।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন
গণভোট এবং সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এনসিপি ‘কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ পুনর্গঠন করেছে। ৩১ সদস্যের এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সেক্রেটারি হিসেবে মনিরা শারমিন। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি, তানজিল মাহমুদ, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা সহ আরও ২৭ জন।
অ্যাম্বাসেডরের ভূমিকা
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে সারা দেশে মোট ২৭০ জনকে অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ জানান, তারা সংশ্লিষ্ট আসনে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনমত গড়ে তুলবেন। দলীয় নেতারা মনে করছেন, এই পরিকল্পিত প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ গণভোটের গুরুত্ব বুঝবে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন তৈরি হবে।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা
জাতীয় নাগরিক পার্টির এই কর্মসূচি নির্বাচনী রাজনৈতিক চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। আসনভিত্তিক অ্যাম্বাসেডরদের মাধ্যমে গণভোটকে কেন্দ্র করে মানুষের মাঝে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পরিকল্পিত প্রচারণা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে সক্ষম, বিশেষ করে যেখানে দল সরাসরি প্রার্থী দাঁড় করায়নি।
উপসংহার
এনসিপির উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনী ও গণভোটের সময়ে দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। আসনভিত্তিক অ্যাম্বাসেডরদের মাধ্যমে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রয়োজনীয়তা বোঝানো হবে, যা দলকে শক্তিশালী জনমতের ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করবে।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
