কেরানীগঞ্জে বিএনপির ৩ শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
কেরানীগঞ্জ এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে, যেখানে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের তিন শতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দলবদল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
কোন্ডা ইউনিয়নে যোগদান অনুষ্ঠান
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুবদল, শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ও বর্তমান পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এই যোগদানের মধ্যে ছিলেন।
উল্লেখযোগ্য নেতাদের দলত্যাগ
জামায়াতে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কোন্ডা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ইসাকুর রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি বাহাউদ্দিন, যুবদলের সাবেক সদস্য আব্দুল খালেক, শ্রমিক দলের নেতা আতাউর রহমান এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা হাজী আনোয়ার হোসেন।
এই নেতারা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠন পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা যায়।
দলত্যাগের কারণ নিয়ে নেতাদের বক্তব্য
সাবেক যুবদল নেতা ইসাকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হলেও দলের ভেতরে তার অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কমিটিতে নতুনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, ফলে পুরোনো নেতারা উপেক্ষিত হয়েছেন।
যুবদলের আরেক নেতা বাহাউদ্দিনও একই অভিযোগ তুলে বলেন, দলের পক্ষে কাজ করেও তিনি সম্মান পাননি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপিতে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কোন্দল ও নেতৃত্ব সংকট
কোন্ডা ইউনিয়নের এক বিএনপি নেতা জানান, কেরানীগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কোন্দল চলে আসছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কিছু অনুসারী কমিটিতে জায়গা না পাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা নেননি। এর ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি গভীর হয়েছে এবং দলত্যাগের প্রবণতা বেড়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর দল পরিবর্তন স্থানীয় নির্বাচনি সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনে এই পরিবর্তন ভোটের মাঠে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তারা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্বের সংকট সমাধান করতে না পারলে বড় দলগুলোর জন্য নির্বাচনি চ্যালেঞ্জ আরও বাড়তে পারে।
Source: Based on reporting from Amar Desh
