ভোট পবিত্র আমানত, অপচয় করা যাবে না : মির্জা ফখরুল

ভোটাধিকারকে জনগণের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভোট একটি পবিত্র আমানত—এটি কোনোভাবেই অপচয় করা উচিত নয়। দেশের গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় সচেতনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনি জনসংযোগে ভোটের গুরুত্বের বার্তা

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় নির্বাচনি জনসংযোগকালে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশকে একটি সুন্দর ও নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তার মতে, ভোটের মাধ্যমেই জনগণ তাদের মত ও প্রত্যাশা প্রকাশ করতে পারে।

তিনি বলেন, ভোট শুধু একটি কাগজের টুকরো নয়; এটি মানুষের অধিকার, শক্তি ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মাধ্যম। সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে দেশ সঠিক পথে এগোবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক ইতিহাস ও দায়িত্বের প্রসঙ্গ

বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে যারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সংকটের সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে, জনগণ তাদের কথাই বিবেচনায় নেবে।

তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা উল্লেখ করে বলেন, সে সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত নৃশংসতার ইতিহাস মানুষ ভুলে যায়নি। তার মতে, ইতিহাসের সেই অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়েই ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নিরাপত্তা ও ঐক্যের অঙ্গীকার

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগ বা সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব বিএনপি নিতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, দল হিসেবে বিএনপি সব ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তার ভাষায়, অতীতে যারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে, প্রয়োজনে তারা আবারও একসঙ্গে দাঁড়াবে—দেশ ও মানুষের স্বার্থে।

এলাকাবাসীর প্রতি আশ্বাস

স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন। ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আল্লাহ সুযোগ দিলে এলাকার কল্যাণে আরও নানা উন্নয়নমূলক কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটকে ‘পবিত্র আমানত’ হিসেবে তুলে ধরা বিএনপির নির্বাচনি বার্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এতে ভোটারদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও অংশগ্রহণের গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

Source: Based on reporting from Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)

Next Post Previous Post

Advertisement