অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিশোরী নিলিকে গলাকেটে হত্যা করে মিলন

রাজধানীর বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নিলি হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‍্যাব)। সংস্থাটির দাবি, অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষোভ ও প্রতিশোধপরায়ণতা থেকে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অভিযুক্ত মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন ঘটনাটির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়।

সিসিটিভি বিশ্লেষণে ঘটনার সময়রেখা

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়—ঘটনার দিন দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন নিলির বাসায় প্রবেশ করেন এবং পাঁচ মিনিট পর পরিবারের একজন সদস্যের সঙ্গে বেরিয়ে যান। পরে তিনি একা আবার বাসায় ঢোকেন এবং কিছু সময় অবস্থানের পর বেরিয়ে যান। ওই সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব জানতে পারে, ঘটনার পর মিলন রাজধানী ছেড়ে বাগেরহাটে পালিয়ে যান। পরে র‍্যাব-৩ ও র‍্যাব-৬ এর যৌথ অভিযানে বাগেরহাট সদর থানার একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত মিলন মল্লিক বাগেরহাটের মান্ডা বাশখালী এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন হোটেল কর্মচারী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তির দাবি

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিলিকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তার মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে। ঘটনার আগের রাতেও একই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

র‍্যাব আরও জানায়, অভিযুক্ত পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন কিছু সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়ে বাসায় যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার পর তিনি বাসা থেকে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান।

উদ্ধার আলামত ও অতীত অপরাধের তথ্য

অভিযানকালে অভিযুক্তের কাছ থেকে ঘটনার সময় পরিহিত পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‍্যাবের তথ্যমতে, মিলন মাদকাসক্ত ছিলেন এবং অতীতেও মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

সমাজে প্রভাব ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা, পারিবারিক নজরদারি এবং অপরাধপ্রবণ আচরণ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার প্রশ্ন তুলেছে। নগর বিশেষজ্ঞ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে আগাম সতর্কতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ এমন অপরাধ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

র‍্যাব জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো সহযোগী বা ভিন্ন উদ্দেশ্য জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post and official briefing by Rapid Action Battalion (RAB).

Next Post Previous Post

Advertisement