নিরবের পরিবারের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে পটুয়াখালীর বাসিন্দা নিরব হোসেনের মৃত্যু হওয়ায় তার পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামে অনুষ্ঠিত জানাজার পর।
নিরব হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা
নিহত নিরব হোসেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পরিবারসহ ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। নিরব হোসেন দুই সন্তানের জনক; মেয়ে নাফিজা জাহান নওরিন (১৪) নবম শ্রেণিতে এবং ছেলে তাহসিন আল নাহিয়ান (১৫) দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিএনপির একজন সক্রিয় সমর্থক নিরব হোসেন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন। লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিএনপির প্রতিক্রিয়া ও পরিবারের প্রতি সহায়তা
জানাজার পর বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, কেন্দ্রীয় নেতা তারেক রহমান ফোন করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, "নিরব হোসেনের ছেলে তাহসিনের চিকিৎসার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা দেশ-বিদেশে করা হবে। পরিবারের কর্মক্ষম সদস্যদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বিএনপি সব সময় শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে।"
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট
নিহত নিরব হোসেনের পরিবার স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলের পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি সহায়তা প্রদর্শন স্থানীয় রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সমাজে রাজনৈতিক সংহতির বার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ
নিরব হোসেনের আকস্মিক মৃত্যু বাংলাদেশে রাজনৈতিক সমাবেশের ভিড় ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা এবং ভীড় ব্যবস্থাপনার ওপর নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেছে।
Source: Based on reporting from Desh TV
