গাড়ি-প্লট নেই, রাশেদ খাঁনের স্বর্ণ আছে ৩০ ভরি

গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়া রাশেদ খাঁনের নির্বাচনী হলফনামা প্রকাশ পেয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ের এই তরুণ নেতার নামে কোনো গাড়ি, বাড়ি, প্লট বা জমিজমা নেই। তবে তার সম্পদের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার।

আয় ও পেশাগত পরিচয়

নির্বাচনী হলফনামায় রাশেদ খাঁন নিজের পেশা হিসেবে রাজনীতি ও ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার আলো গৃহিণী। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে হলফনামা জমা দেওয়ার দিন পর্যন্ত তিনি মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন, যা সম্পূর্ণই ব্যবসা থেকে অর্জিত।

হলফনামা অনুযায়ী, তার নামে কোনো শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র কিংবা উল্লেখযোগ্য ব্যাংক আমানত নেই। দেশের বাইরে কোনো সম্পদ বা বিনিয়োগও নেই বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

নগদ অর্থ ও ব্যাংক হিসাব

রাশেদ খাঁনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জমাদানের দিন পর্যন্ত তার কাছে নগদ রয়েছে ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৫ টাকা। তার স্ত্রীর কাছে নগদ রয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া দুটি বেসরকারি ব্যাংকের ঝিনাইদহ ও ঢাকা সেনানিবাস শাখায় তার ব্যক্তিগত হিসাবে মোট জমা রয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৫৮২ টাকা।

এই পরিমাণ নগদ অর্থের বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নগদ সম্পদের উচ্চ অনুপাত নির্বাচনী হলফনামায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বর্ণালংকারে বড় অংশের সম্পদ

হলফনামায় রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেছেন, তার নিজের রয়েছে ৩০ ভরি স্বর্ণ এবং তার স্ত্রীর রয়েছে ১০ ভরি স্বর্ণ। এসব স্বর্ণ তিনি উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্জনকালে স্বর্ণ, নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমার সম্মিলিত মূল্য ছিল ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৭ টাকা, যার বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ৪১২ টাকা।

এছাড়া তার স্ত্রীর নামে স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য, আসবাবপত্র ও অন্যান্য উপহার সামগ্রীর অর্জনকালীন আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

স্থাবর সম্পদ ও মামলার তথ্য

হলফনামা অনুযায়ী, রাশেদ খাঁনের নামে কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তার কিংবা তার স্ত্রীর নামেও কোনো বাড়ি, গাড়ি, প্লট বা জমি নেই।

মামলার তথ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০১৮ সালে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

আয়কর রিটার্ন ও সম্পদের হিসাব

২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, রাশেদ খাঁন মোট আয় দেখিয়েছেন সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৫ টাকা। চলতি অর্থবছরে তিনি ৫ হাজার টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

গণঅধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়ায় রাশেদ খাঁন ঝিনাইদহের রাজনীতিতে আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন। তার ঘোষিত সম্পদের ধরন ও পরিমাণ ভোটারদের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement