নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের আগে বিএনপির সঙ্গে বসব
আগামী জাতীয় নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দেশের স্বার্থে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলটির শীর্ষ নেতারাও একই প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন বলে জানান জামায়াত আমির।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে গিয়ে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় জামায়াত আমির শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার মূল্যায়ন
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তার রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রামে ভরপুর। গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন লড়াই করেছেন বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
তিনি অভিযোগ করেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসার অনুমতির জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও তৎকালীন সরকার বিষয়টি আমলে নেয়নি। তার ভাষায়, শেষ পর্যন্ত বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেলেও ততদিনে তার স্বাস্থ্যের বড় ধরনের অবনতি ঘটে।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়—এমন প্রত্যাশা থেকেই বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, আলোচনায় দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং একটি সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়টিও উঠে এসেছে। নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগেই খোলামেলা আলোচনায় বসে জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
রাজনৈতিক ঐক্যের ইঙ্গিত
জামায়াত আমির বলেন, অতীতে দেশের স্বার্থে যেভাবে একসঙ্গে কাজ করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও সেই ঐক্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত। তিনি বলেন, “ম্যাডাম যে ঐক্যের পাটাতন তৈরি করে গেছেন, তার ওপর দাঁড়িয়ে আমরা যেন আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারি।”
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি জাতির ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে জাতির জন্য কাজ করলে জনগণ সম্মান জানাতে জানে।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও নজরুল ইসলাম খানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান নীরব ও মোবারক হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিন ও জানাজায় জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শোক প্রকাশ করেন।
Source: Based on reporting from Amar Desh
