সারজিস আলমকে শোকজ

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পঞ্চগড়-১ আসনের (পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা।

কী অভিযোগে শোকজ

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিত ১০ দলীয় জোটের এক নির্বাচনি জনসভাকে কেন্দ্র করে এই শোকজ নোটিশ জারি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই জনসভায় নির্বাচনি আচরণবিধি অমান্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমানকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ, ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়।

নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত সীমার বাইরে প্রচারসামগ্রী ব্যবহার এবং অনুমোদনহীনভাবে ব্যানার বা তোরণ স্থাপন নিষিদ্ধ। এ ধরনের কার্যক্রমকে আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার বক্তব্য

পঞ্চগড়-১ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কমিশন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না এবং সব প্রার্থীর জন্য আচরণবিধি সমানভাবে প্রযোজ্য।

নির্বাচনি আচরণবিধি ও কমিশনের অবস্থান

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত আচরণবিধির মূল উদ্দেশ্য হলো সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত প্রভাব বা প্রদর্শনীর মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা ঠেকানো। নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে বিভিন্ন আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় সতর্কতা, জরিমানা এবং শোকজ নোটিশ দিয়েছে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ প্রার্থীদের জন্য একটি বার্তা বহন করে—নির্বাচনি মাঠে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে কমিশন সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় প্রভাব

পঞ্চগড় অঞ্চলে এই শোকজ নোটিশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, নির্বাচনের সময় আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে, জোট সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা দেন, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

এ ঘটনায় সারজিস আলম বা সংশ্লিষ্ট জোটের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামনের করণীয়

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শোকজের জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন।

পঞ্চগড়-১ আসনে নির্বাচন ঘিরে এই ঘটনা প্রার্থীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে নিয়ম মানাই হবে নির্বাচনি লড়াইয়ের প্রধান শর্ত।

Source: Based on reporting from Desh TV

Next Post Previous Post

Advertisement