আমি ‘অতিথি পাখি’ নই, আপনাদের ঘরের মেয়ে : নির্বাচনী ইশতেহারে তাসনিম জারা
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমে নিজেকে “ঘরের মেয়ে” হিসেবে উপস্থাপন করেছেন চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেছেন, এলাকার মানুষকে অবহেলার রাজনীতি থেকে বের করে এনে ন্যায্য সেবা নিশ্চিত করতেই তার এই প্রার্থীতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি গ্যাস, পানি, রাস্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
ঢাকা-৯ নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ
ডা. তাসনিম জারা তার ইশতেহারে অভিযোগ করেন, ঢাকা-৯ শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি বৈষম্যের শিকার। তিনি বলেন, “গুলশান-বনানীর মতো একই হারে কর ও বিল পরিশোধ করলেও ঢাকা-৯ এর মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না।” তার মতে, এই ব্যবস্থাগত বৈষম্যই এলাকার নাগরিক দুর্ভোগের মূল কারণ।
শনিবার বিকেলে ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি তার নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরেন। পেশাদার রাজনীতিক না হয়েও জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই তিনি ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান।
গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতা—মূল অগ্রাধিকার
ইশতেহারে গ্যাস সংকটকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন ডা. জারা। তিনি বলেন, নিয়মিত বিল দেওয়া সত্ত্বেও অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্না করাই সম্ভব হয় না। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতির পক্ষে আইন প্রস্তাব করার অঙ্গীকার করেন।
এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং রাস্তা সংস্কারে ঠিকাদারদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের পরিকল্পনা
চিকিৎসক হিসেবে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করার কথা বলেন।
পাশাপাশি, এলাকার পাড়ার ক্লিনিকগুলোকে ধাপে ধাপে ‘মিনি হাসপাতাল’ হিসেবে গড়ে তোলা এবং সারা বছর মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
শিক্ষা, নিরাপত্তা ও তরুণদের জন্য প্রতিশ্রুতি
শিক্ষাক্ষেত্রে কোনো ধরনের ‘এমপি কোটা’ বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানান তাসনিম জারা। তার পরিকল্পনায় প্রতিটি স্কুল হবে আধুনিক ল্যাবভিত্তিক শিক্ষা কেন্দ্র, যেখানে শিক্ষার্থীরা কোডিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করবে।
নিরাপত্তা জোরদারে পুরো এলাকাকে সিসিটিভির আওতায় আনা এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
জবাবদিহিতার নতুন মডেল
নির্বাচনের পর প্রতিনিধিদের ‘গায়েব’ হয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি ভাঙতে চান ডা. জারা। তিনি জানিয়েছেন, এলাকায় স্থায়ী সংসদ সদস্য কার্যালয় স্থাপন, অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি জানাতে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ভোটারদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করবেন।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একটি স্বচ্ছ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন এবং একজন চিকিৎসক হিসেবে “সমস্যার রোগ নির্ণয় ও কার্যকর সমাধান” দিতে চান।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
