সত্যি সংস্কার চাইলে গণভোটে হ্যাঁ বলতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা
প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, প্রকৃত অর্থে সংস্কার চাইলে আসন্ন গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
রোববার সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নাগরিক পদক–২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট নাগরিক, জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গণভোটকে ক্ষমতার মোড় ঘোরানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন উপদেষ্টা
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, নির্বাচনের দিনে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি যে দ্বিতীয় ভোটটি দেওয়া হবে, সেটিই হচ্ছে গণভোট। তার ভাষায়, এই গণভোট বাংলাদেশের ক্ষমতার কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এটি এমন একটি সময়, যখন ক্ষমতার ভার শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে জনগণের দিকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, গণভোটে অংশ না নেওয়া, নীরব থাকা কিংবা ‘না’ ভোট দেওয়ার অর্থ হলো সমাজে যে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য আনার সুযোগ এসেছে, তা আরও বহু বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া। এ ধরনের নিষ্ক্রিয়তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সংস্কার প্রস্তাব বোঝার আহ্বান
উপদেষ্টা তার বক্তব্যে নাগরিকদের উদ্দেশে সংস্কার প্রস্তাবগুলো ভালোভাবে পড়া ও বোঝার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কার নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাখ্যামূলক নোট ও তথ্যভিত্তিক উপকরণ প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারেন।
তার মতে, গণভোট কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি নাগরিকদের মত প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তাই আবেগ বা গুজবের ওপর নয়, বরং তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণভোটের তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত গণভোট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে যে আলোচনা চলছিল, গণভোটের মাধ্যমে সেটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে জনগণের সরাসরি মতামত প্রতিফলিত হলে ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও নগরবাসীর অংশগ্রহণ এই গণভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ সংস্কারের সুফল বা কুফল—উভয়ই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে এই জনগোষ্ঠীর ওপর।
সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তার বক্তব্যের শেষাংশে আবারও জোর দিয়ে বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে সংস্কার চান, তাদের সবাইকে গণভোটে যেতে হবে এবং নিজেদের মত স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। তার মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটই হবে সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান।
উপসংহার: গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার ধরণে প্রভাব ফেলতে পারে। উপদেষ্টার বক্তব্য সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে নাগরিকদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়ে উঠছে।
Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন
