হাসিনাকে বাংলাদেশে পাঠাতে মোদির প্রতি আহ্বান ওয়াইসির
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিশে ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (এআইএমআইএম)-এর প্রধান ও লোকসভার সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। ভারতের এক জনসভায় দেওয়া তাঁর বক্তব্য ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক সমাবেশে বক্তৃতাকালে ওয়াইসি দাবি করেন, দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে পাঠানো উচিত। তাঁর বক্তব্যে শাসক দল বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির অভিবাসনবিষয়ক অবস্থানকেই কটাক্ষ করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
জনসভায় কী বলেছেন ওয়াইসি
ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সমাবেশে ওয়াইসি বলেন, “মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার বলছে তারা রাজ্য থেকে বাংলাদেশিদের তাড়িয়ে দিয়েছে। তাহলে দিল্লিতে মোদিজির ‘এক বোন’ বসে আছেন—তাঁকেও বাংলাদেশে পাঠান।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
ওয়াইসি আরও বলেন, যদি সত্যিই অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো সরকারের লক্ষ্য হয়, তবে সেই নীতি সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তাঁর ইঙ্গিত ছিল, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া হলে বিজেপির বক্তব্য ও বাস্তবতার মধ্যে দ্বৈততা তৈরি হয়।
স্লোগান ও সমর্থন
সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে ওয়াইসি বলেন, যদি তারা চান শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে পাঠানো হোক, তাহলে স্লোগান দিতে। এ সময় জনতা ‘নারায়ে তাকবির’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সরাসরি উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “মোদি জি, এই আওয়াজ শুনুন। তাঁকে নিয়ে যান, তাঁকে বের করে দিন, তাঁকে বাংলাদেশে পৌঁছে দিন।”
আগের বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এর আগেও শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন ওয়াইসি। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে বিহারের পূর্ণিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) বিহারে তথাকথিত বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ আশ্রয় দিচ্ছে।
এই বক্তব্যের জবাবে ওয়াইসি বলেন, বিহারে বা সীমান্তবর্তী এলাকায় কোনো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নেই। তিনি দাবি করেন, ওই এলাকাগুলোতেই আগের নির্বাচনে তাঁর দল ভালো ফল করেছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “মোদিজি বলছেন বিহারে বাংলাদেশি আছে। কিন্তু আপনার দিল্লিতে বাংলাদেশ থেকে আসা এক বোন বসে আছেন। তাঁকে সীমান্তে আনুন, আমরাই তাঁকে বাংলাদেশে পৌঁছে দেব।”
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াইসির এই বক্তব্য শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনাতেও পড়তে পারে। শেখ হাসিনার অবস্থান, তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে বিষয়টি আঞ্চলিক রাজনীতিতে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে ওয়াইসির এই আহ্বানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
Source: Based on reporting from Economic Times and দৈনিক আমার দেশ
