হুম্মাম কাদের চৌধুরীর স্ত্রী তার চেয়ে বেশি ধনী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জমা দেওয়া নির্বাচনি হলফনামা বিশ্লেষণে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও তার স্ত্রী শ্যামানজার শ্যামা খানের সম্পদের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তথ্য অনুযায়ী, সম্পদের পরিমাণে হুম্মামের স্ত্রী স্বামীর তুলনায় প্রায় ৫২ গুণ বেশি ধনী। একই সঙ্গে বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রেও শ্যামানজার শ্যামার আয় হুম্মামের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

এই তথ্যগুলো পাওয়া গেছে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে, যা চট্টগ্রাম ব্যুরোর প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

হুম্মাম কাদের চৌধুরীর সম্পদের চিত্র

হলফনামা অনুযায়ী, হুম্মাম কাদের চৌধুরীর মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮১ লাখ ৯০ হাজার ২৫৯ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ হিসেবে রয়েছে ৩৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫৮৪ টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ২৪ লাখ ৭১ হাজার ১২৭ টাকা। এছাড়া বন্ড, ঋণপত্র ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানত হিসেবে রয়েছে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দুটি ব্যাংকে জমা রয়েছে আরও ৫০ হাজার টাকা।

তবে ব্যক্তিগত মালিকানায় তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। কৃষিজমি, অকৃষিজমি, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট—কোনোটিরই মালিক তিনি নন। যৌথ মালিকানায় ঢাকার ধানমন্ডিতে ২০ কাঠা জমির অংশবিশেষ এবং চট্টগ্রামের রাউজানের রহমতগঞ্জে পারিবারিক জমিতে তার ১/২০ অংশ রয়েছে।

হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার নামে বর্তমানে কোনো মামলা, সরকারি পাওনা বা ঋণ নেই। পূর্বে দায়ের হওয়া দুটি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার প্রদর্শিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।

স্ত্রীর সম্পদে বিশাল ব্যবধান

অন্যদিকে, হুম্মামের স্ত্রী শ্যামানজার শ্যামা খানের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। হলফনামা অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৪৩ কোটি ২০ লাখ ১২ হাজার ৫১১ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩৬ কোটি ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫১১ টাকা।

বিস্তারিত হিসাবে দেখা যায়, তার নগদ অর্থের পরিমাণ ২৬ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৩ টাকা। বন্ড ও শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে ৭ কোটি ৫৫ লাখ ২৮ হাজার ২২২ টাকা। সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানত রয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। পাঁচটি ব্যাংকে জমা রয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে শ্যামানজার শ্যামা খানের মালিকানায় রয়েছে ৭ কোটি ৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকার সম্পদ। এর মধ্যে ঢাকার গুলশানে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং আরও একটি ফ্ল্যাটের জন্য অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনো স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান ধাতব গহনা নেই।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রার্থীদের সম্পদ বিবরণ সবসময়ই আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে বড় অঙ্কের সম্পদ ও আয়ের তথ্য ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। চট্টগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে এই সম্পদ ব্যবধান নতুন করে জনআলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, হুম্মাম কাদের চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে। তিনি ২০১৬ সালে নিখোঁজ হন এবং ২০১৭ সালের মার্চে প্রায় ছয় মাস পর ফিরে আসেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, তাকে তথাকথিত ‘আয়নাঘরে’ আটক রাখা হয়েছিল।

উপসংহার

নির্বাচনি হলফনামায় প্রকাশিত এই তথ্য শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নয়, বরং নির্বাচনী রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বও তুলে ধরে। ভোটারদের সামনে এখন এসব তথ্য বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

Source: Based on reporting from Amader Desh Online

Next Post Previous Post

Advertisement