ভারত-পাকিস্তান- চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের শোক বইয়ে স্বাক্ষর
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ঢাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভারত, পাকিস্তান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা রাজধানীতে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এসে শোক প্রকাশ করেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে গুলশানে অবস্থিত কার্যালয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কূটনীতিকদের পাশাপাশি দলটির শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও সশরীরে উপস্থিত হয়ে শোক জানাচ্ছেন। এতে করে খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচিত একটি ঘটনা হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
যেসব দেশের প্রতিনিধিরা শোক জানিয়েছেন
বিএনপি মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ছয়টি দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। এর মধ্যে চীন, ভারত, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। শোক বইয়ে প্রথম স্বাক্ষর করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
প্রতিনিধিরা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার দীর্ঘ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার পরিচিতি থাকায় বিভিন্ন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সমবেদনা জানাতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
বিএনপি ও শরিক দলগুলোর উপস্থিতি
শোক বইয়ে স্বাক্ষর করতে বিএনপির শরিক দলগুলোর নেতারাও ধারাবাহিকভাবে কার্যালয়ে আসছেন। এদের মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দলিব রহমান পার্থকে দেখা গেছে। তারা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপস্থিতি দেশের বিরোধী রাজনৈতিক জোটের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক সৌজন্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
শোক বই খোলা রাখার সময়সূচি
বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, “গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শোক বই খোলা হয়েছে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শোক বইয়ে স্বাক্ষর করা যাবে।
এছাড়া ৩১ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা এবং ১ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শোক বইয়ে স্বাক্ষরের সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত এই সময়সূচির মধ্যে কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিকরা শোক জানাতে পারবেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার তাৎপর্য
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অবস্থান ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির বিষয়টি তুলে ধরে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তার ভূমিকা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা আন্তর্জাতিক মহলেও পরিচিত ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শোক প্রকাশ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিক সৌজন্য বজায় রাখার একটি অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
শেষ কথা
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন শোকের আবহ তৈরি হয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ঢাকায় শোক বইয়ে একের পর এক কূটনৈতিক প্রতিনিধির স্বাক্ষর সেই বাস্তবতারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online
