বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেন রুমিন ফারহানা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বহিষ্কারের কারণ কী বলছে দল

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কঠোর বার্তা দিতে চেয়েছে।

রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক পরিচয়

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির পরিচিত মুখ। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং সংসদে দলটির পক্ষে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। আইন পেশার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক আলোচনায়ও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম ও রাজনৈতিক আলোচনায় দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ফলে তার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া

রুমিন ফারহানার বহিষ্কারের খবরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক বলছেন, একজন পরিচিত ও আলোচিত নেত্রীকে বহিষ্কার করা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি নেতৃত্ব দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও বার্তা স্পষ্ট করতে চাইছে। এই বহিষ্কার সেই কৌশলেরই অংশ হতে পারে।

দলের ভবিষ্যৎ অবস্থান

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ কার্যক্রম চালালে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

এদিকে, বহিষ্কারের পর ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক অঙ্গন তার পরবর্তী অবস্থান ও সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছে।

শেষ কথা

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বহিষ্কার বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলীয় শৃঙ্খলা বনাম ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের এই সংঘাত ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Source: Based on reporting from Desh TV Online

Next Post Previous Post

Advertisement