গণঅধিকার ছেড়ে বিএনপিতে যাচ্ছেন রাশেদ খাঁন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনকে ঘিরে। দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সম্ভাব্য দলবদল দেশের বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবু হানিফ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাশেদ খাঁন ইতোমধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বিএনপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত। তাঁর ভাষায়, বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যেই এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দলীয় পদত্যাগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আবু হানিফ আরও বলেন, রাশেদ খাঁনের পদত্যাগের পর গণঅধিকার পরিষদের নতুন সাধারণ সম্পাদক কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত দলটির নির্বাহী পরিষদ ও উচ্চতর পরিষদের বৈঠকে নেওয়া হবে। দলীয় নেতৃত্বে এই পরিবর্তন গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কৌশলে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি রাশেদ খাঁন নিজে। গণমাধ্যমের প্রশ্নে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “এমন কিছু হলে জানানো হবে।” তাঁর এই নীরবতা রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল আরও বাড়িয়েছে।

বিএনপির বক্তব্য ও আসন সমঝোতা

এর আগে গত বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনের জন্য দুটি আসন ছেড়ে দিয়েছে।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে এবং রাশেদ খাঁন ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা শুরু হয় যে, গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সমঝোতায় যাচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশেদ খাঁনের সম্ভাব্য দলবদল শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি বৃহত্তর বিরোধী জোট রাজনীতির একটি অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার কৌশল নিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের বিএনপিতে যোগ দেওয়ার খবর সেই কৌশলেরই প্রতিফলন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ নেতৃত্ব ও ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা রাশেদ খাঁনের বিএনপিতে অন্তর্ভুক্তি দলটির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে। অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ দলের শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের চাপ তৈরি হবে।

সামনের দিনগুলোর গুরুত্ব

রাশেদ খাঁনের আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান এবং মনোনয়ন সংক্রান্ত ঘোষণা সামনে এলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে কীভাবে নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠন করে, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

সব মিলিয়ে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই রাজনৈতিক পরিবর্তন বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, যার প্রভাব আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

Source: Based on reporting from Desh TV Online

Next Post Previous Post

Advertisement