বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ‘উদ্বেগজনক’ নতুন বার্তা দিলো ভারত
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন বা রাজনৈতিক সহিংসতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এসব বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অব্যাহত বৈরিতা ও সহিংসতার খবর গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের অবস্থান
রণধীর জয়সওয়ালের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যে ধারাবাহিক বিদ্বেষ ও হামলার অভিযোগ উঠে আসছে, তা ভারতের কাছে উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, এসব ঘটনাকে গণমাধ্যমের বাড়াবাড়ি বা রাজনৈতিক উত্তেজনার অংশ বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। ভারতের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিশেষ করে ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবকের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানায় নয়াদিল্লি।
রাজবাড়ীর ঘটনা ও বাংলাদেশের সরকারি ব্যাখ্যা
এদিকে রাজবাড়ীর পাংশায় বুধবার রাতে গণপিটুনিতে অমৃত মন্ডল ওরফে সম্রাট নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের দাবি, ঘটনাটি কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয় জনতার সঙ্গে সংঘর্ষের সময় প্রাণ হারান।
সরকারি সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
ভারতে বাংলাদেশ মিশন ঘিরে বিক্ষোভ
এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ভারতের দিল্লি, কলকাতা ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ মিশন এবং ভিসা সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। বিজেপি ও কয়েকটি কট্টরপন্থী সংগঠন এসব কর্মসূচিতে অংশ নেয় এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ করে। এসব ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে সংবেদনশীলতা তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও ভুল তথ্যের বিস্তার—এই দুই বিষয় সামাল দিতে না পারলে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।
পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে তদন্তের অগ্রগতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর।
Source: Based on reporting from Bangladesh media and statements by India’s Ministry of External Affairs
