হাদির কবর জিয়ারতসহ শনিবার তারেক রহমানের একাধিক কর্মসূচি

দেশে প্রত্যাবর্তনের পর রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার রাজধানীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এসব কর্মসূচির মধ্যে শহীদ ওসমান শরিফ হাদির কবর জিয়ারত, নির্বাচন কমিশনে যাওয়া এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।

বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই তারেক রহমানের কর্মসূচি শুরু হবে। দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এসব কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে চান বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

হাদি হত্যাকাণ্ড: শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক বার্তা

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, শনিবার বেলা ১১টায় তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরে পাশে শায়িত শহীদ ওসমান শরিফ হাদির কবর জিয়ারত করবেন। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিবসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

হাদি হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনীতিতে আলোচিত একটি ঘটনা। বিএনপি শুরু থেকেই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কবর জিয়ারতের মাধ্যমে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ন্যায়বিচারের দাবিতে তাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করা হবে।

নির্বাচন কমিশনে উপস্থিতি

কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনে যাবেন বলে জানানো হয়েছে। সেখানে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেবেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ কর্মসূচিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, নির্বাচন ও ভোটার তালিকা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি বিভিন্ন অভিযোগ ও সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনে সরাসরি উপস্থিতি বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি দলটির নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার বার্তাও বহন করে।

আহতদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ

এনআইডি নিবন্ধন শেষে তারেক রহমান রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেবেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের মাধ্যমে তারেক রহমান আন্দোলনে আহতদের প্রতি দলের সহমর্মিতা ও দায়বদ্ধতার বার্তা দেবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আহতদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে দলীয় উদ্যোগ জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের সরাসরি কর্মসূচি ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, এসব কর্মসূচি বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে সহায়ক হবে।

সামগ্রিকভাবে, শনিবারের কর্মসূচিগুলো বিএনপির রাজনীতিতে মানবিকতা, আন্দোলনের স্মরণ এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতির সমন্বিত বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement