চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে হাদির গায়েবানা জানাজা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব জানাজায় অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধা, ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ মানুষ। শোকের পাশাপাশি এসব কর্মসূচিতে হাদির হত্যার বিচার দাবি করে প্রতিবাদী কণ্ঠও শোনা যায়।

চট্টগ্রাম, হাদি হত্যা, গায়েবানা জানাজা, ইনকিলাব মঞ্চ—এই বিষয়গুলো শনিবার চট্টগ্রামের রাজপথ ও সামাজিক আলোচনায় গুরুত্ব পায়। রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামে এই আয়োজন হাদির প্রতি সমর্থন ও ন্যায়বিচারের দাবির ব্যাপকতা তুলে ধরে।

লালদিঘী ময়দানে প্রধান জানাজা

চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে শনিবার বিকেলে ‘চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি ও দোয়া পরিচালনা করেন কল্পোলোক আবাসিক জামে মসজিদের খতিব ইমরানুল হক সায়েম।

জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। দোয়া শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি মিছিল বের করেন, যা নগরের নিউ মার্কেট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল চলাকালে হত্যার বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

প্রেসক্লাবের সামনে আলাদা কর্মসূচি

এর আগে দুপুরে নগরের জামালখান প্রেসক্লাবের সামনে আরেকটি গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মাহবুবুল হকের ছোট ভাই মঞ্জু মাহিম এতে ইমামতি করেন।

এই জানাজায় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, ছাত্র-জনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা হাদির হত্যাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার আল্টিমেটাম দেন।

উপজেলাগুলোতেও শোকের আয়োজন

নগরের বাইরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় মসজিদ ও খোলা মাঠে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নিহত হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং একই সঙ্গে সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান জানান।

স্থানীয় আয়োজকদের মতে, এসব জানাজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদও বটে।

হাদির মৃত্যু ও ঘটনার পটভূমি

উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরিস্থিতির অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে টানা কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।

চট্টগ্রামে প্রতিক্রিয়া ও তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামে একাধিক স্থানে গায়েবানা জানাজা আয়োজন হাদির জনপ্রিয়তা এবং তার মৃত্যুকে ঘিরে জনমনের প্রতিক্রিয়ার গভীরতা প্রকাশ করে। তারা মনে করছেন, এই কর্মসূচিগুলো আগামী দিনে ন্যায়বিচারের দাবিকে আরও জোরালো করতে পারে।

চট্টগ্রামে শোক ও প্রতিবাদের এই চিত্র প্রমাণ করে—হাদির মৃত্যু একটি আঞ্চলিক ঘটনা নয়, বরং জাতীয় পরিসরে আলোচিত একটি ইস্যু হয়ে উঠেছে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement