হাদির অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত আমির

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শহীদ শরিফ ওসমান হাদির অসুস্থ মায়ের খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রোগীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এই মানবিক উদ্যোগটি নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জামায়াত আমিরের এই সফরকে দলীয় অবস্থানের বাইরে একটি মানবিক সহমর্মিতার বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা, সর্বোচ্চ চিকিৎসার অনুরোধ

হাসপাতালে পৌঁছে ডা. শফিকুর রহমান কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মায়ের চিকিৎসার অগ্রগতি ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের কাছে রোগীর জন্য সর্বোচ্চ ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাদির মা শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল থাকলেও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছেন।

দোয়া ও মানবিক বার্তা

চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি জামায়াত আমির মহান আল্লাহর কাছে হাদির মায়ের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন। তিনি বলেন, যেকোনো সংকটে অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক সহানুভূতি দেখানো প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এই দোয়া ও সহমর্মিতার বিষয়টি উপস্থিত স্বজনদের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সফরসঙ্গীরা কারা ছিলেন

জামায়াত আমিরের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। এছাড়া ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের এনডিএফ-এর একাধিক নেতাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

দলীয় সূত্র জানায়, এই সফর কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ নয়; বরং এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে করা হয়েছে।

প্রেক্ষাপট: হাদি হত্যাকাণ্ড ও জনমনে প্রতিক্রিয়া

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ এই ঘটনার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে হাদির অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খোঁজ নিতে রাজনৈতিক নেতাদের এমন উদ্যোগ জনমনে মানবিক রাজনীতির একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত উপসংহার

হাদির অসুস্থ মায়ের খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত আমিরের উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে মানবিক সহমর্মিতার একটি বার্তা দিয়েছে। চলমান অস্থিরতার মধ্যে এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next Post Previous Post

Advertisement