খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মইজ্জু। এক শোকবার্তায় তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রয়াত নেত্রীর পরিবারের সদস্যদের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই শোকবার্তাকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়, এই শোকের সময়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহ যেন শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের শক্তি ও সহনশীলতা দান করেন। বার্তাটি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান ও আঞ্চলিক পরিচিতির প্রতিফলন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

ইন্তেকাল ও চিকিৎসার প্রেক্ষাপট

বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ কিডনি, ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র ও চোখের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ হৃদরোগ ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে গত ২৩ নভেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসা তদারকিতে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড কাজ করে। ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে এই বোর্ড নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আসছিল। চলতি মাসের শুরুতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও শারীরিক অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক তাৎপর্য

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের শোকবার্তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আসা প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি অংশ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তার ভূমিকা থাকায় বিভিন্ন দেশের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে শোক জানাচ্ছেন। এসব বার্তা বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক সৌজন্য ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতাও তুলে ধরে।

এর আগে ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। ফলে জাতীয় শোকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

রাজনৈতিক জীবন ও পরিচিতি

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিত। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া ১৯৬০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৯১ থেকে তিন দফায় তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক জীবনে নির্বাচন, আন্দোলন, মামলা ও কারাবাসসহ নানা উত্থান-পতনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেই তার শেষ জীবন কেটেছে।

শেষ কথা

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়েছে। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের শোকবার্তা তার আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও রাজনৈতিক গুরুত্বেরই প্রতিফলন। জাতীয় শোকের এই সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সহমর্মিতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Source: Based on reporting from Desh TV Online

Next Post Previous Post

Advertisement