কক্সবাজারে সবার আগে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ

কক্সবাজার: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার সূচনা করলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তিনি সবার আগে মনোনয়নপত্র জমা দেন। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনিই প্রথম প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

চকরিয়ায় অবস্থিত সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। তার এই উপস্থিতিকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি আগ্রহ ও আলোচনা দেখা গেছে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার, নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। সেখান থেকে গাড়িবহর নিয়ে তিনি চকরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে পথে দলীয় কর্মীদের উপস্থিতি নির্বাচনী মাঠে বিএনপির সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত বার্তায় বলা হয়, তিনি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা করেন এবং ভোটারদের অধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করতে মাঠে কাজ করবেন।

কক্সবাজার-১ আসনের রাজনৈতিক গুরুত্ব

কক্সবাজার-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ভোটার সংখ্যা বেশি এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তীব্র। অতীতে এই আসনে বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ এই আসনে পরিচিত মুখ। সাবেক মন্ত্রী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জাতীয় পর্যায়ের পরিচিতি নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে এই আসনে অন্য দলগুলোর প্রার্থীদের ঘোষণাও সামনে এলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও স্পষ্ট হবে।

অন্যান্য দলের প্রস্তুতি ও মনোনয়ন সংগ্রহ

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, রোববার পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ২৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে এদিন প্রথম মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে গেলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মনোনয়ন জমা ও যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে কক্সবাজারের রাজনীতিতে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে কে কোথায় অবস্থান করছে।

পরবর্তী কর্মসূচি

মনোনয়নপত্র জমা শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ পেকুয়ায় নিজ বাসভবনে যাবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব মোহাম্মদ ছাফওয়ানুল করিম। স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই হবে তার পরবর্তী কর্মসূচির মূল অংশ।

শেষ কথা

কক্সবাজারে প্রথম মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ঘটনাটি বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি প্রতীকী বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে ভোটের পরিবেশ, ভোটার উপস্থিতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের শক্তির ওপর। আগামী দিনগুলোতে এই আসনসহ পুরো কক্সবাজার জেলায় নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement