কমপক্ষে ১০০ আসনে জয়ের লক্ষ্যে কাজ করছে জাতীয় পার্টি’
রংপুর: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টি (জাপা) কমপক্ষে ১০০টি আসনে জয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দলটির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তিনি বলেন, সারা দেশে ২৪৩টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পর দলের সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটের বাস্তবতা বিবেচনায় এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিরাপদ থাকলে ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে আগ্রহী হবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর দর্শনাস্থ পল্লী নিবাসে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাপা কো-চেয়ারম্যান। এর আগে তিনি রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর পক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবি
মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, নির্বাচন অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বজায় রাখতে হবে। তার মতে, প্রত্যেক প্রার্থী যদি বাধাহীনভাবে নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারেন, তাহলে জাতীয় পার্টি ভালো ফলাফল করতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকুক। কেউ যদি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, নির্বাচন কমিশন যেন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বড় দলগুলোর পাশাপাশি জাতীয় পার্টির মতো বিরোধী দলগুলোর এমন বক্তব্য নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।
দলে ফেরার প্রক্রিয়া ও প্রার্থী বাছাই
জাপা কো-চেয়ারম্যান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া কয়েকজন নেতা আবারও জাতীয় পার্টিতে ফিরে এসেছেন এবং তাদের মধ্য থেকে কয়েকজন মনোনয়নও পেয়েছেন। তিনি বলেন, “যারা বাস্তব প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারবে এবং জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে, তাদেরই আমরা মনোনয়ন দিয়েছি।”
রংপুর-১ আসনে ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই আসনে জয় দিয়েই জাতীয় পার্টির বিজয়যাত্রা শুরু হবে। রংপুর জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এই আসন দলটির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
প্রার্থীর প্রত্যাশা ও স্থানীয় বাস্তবতা
রংপুর-১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী বলেন, এই আসনে ‘লাঙলের গণজোয়ার’ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের কল্যাণে কাজ করায় তার একটি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। “মানুষ চায় আমি সংসদে গিয়ে তাদের উন্নয়নে কাজ করি,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, জাতীয় পার্টির পাশাপাশি তার নিজস্ব একটি নির্বাচনী ইশতেহার রয়েছে, যেখানে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সেবার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচিত হলে রংপুর-১ আসনের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শেষ কথা
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জাতীয় পার্টি তাদের লক্ষ্য ও প্রত্যাশা স্পষ্ট করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষিত ১০০ আসনের লক্ষ্য পূরণ অনেকটাই নির্ভর করবে নির্বাচনী পরিবেশ, ভোটার উপস্থিতি এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতার ওপর। এসব শর্ত পূরণ হলে জাতীয় পার্টি আসন্ন নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ফল করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
