দেশ অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: জামায়াত আমির

দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর

দেশকে অস্থিতিশীল করার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আজ ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বাইরে অবস্থান করলেও প্রতিটি মুহূর্ত তিনি দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতে গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘স্নেহের শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জন্য মনটা খুবই ভারাক্রান্ত। তিনি মহান আল্লাহর মেহমান হয়ে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন।’

জামায়াত আমির বলেন, শহীদ ওসমান হাদি একটি আধিপত্যমুক্ত, স্বাধীন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং শাহাদাত পর্যন্ত সেই সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সহিংসতার পথে নয়, বরং যুক্তি ও আদর্শের মাধ্যমে ইনসাফের লড়াইয়ে বিশ্বাসী ছিলেন।

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির রক্ত কখনোই বিফলে যাবে না এবং তার স্বপ্নের ‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এই বিচার নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পন্থায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রকারী যেন স্যাবোটাজের মাধ্যমে এই আন্দোলনকে কলুষিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ

জামায়াত আমির উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে দেশবাসী যখন সোচ্চার, তখন বিভিন্ন দুঃখজনক সহিংস ঘটনা ঘটেছে। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এবং প্রবীণ সম্পাদক নুরুল কবীরের ওপর হামলা ও অপপ্রচারের তিনি তীব্র নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যম রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। ফ্যাসিবাদের আমলের মতো গণমাধ্যমের ওপর নগ্ন হামলার সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

এছাড়া হাইকমিশন কার্যালয় ও কয়েকটি কালচারাল সেন্টারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ধর্ম অবমাননার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি চরম অন্যায় ও গর্হিত অপরাধ। তবে আইন হাতে তুলে নিয়ে ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য এবং ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী।

তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে কিছু পক্ষ স্যাবোটাজে লিপ্ত থাকতে পারে। প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা দোসরদের বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে জবাবদিহিমূলক ও সক্রিয় করে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

Next Post Previous Post

Advertisement