এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন তাসনিম জারা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি নিজেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

এনসিপির এক যুগ্ম সদস্য সচিব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাসনিম জারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার পদত্যাগের মাধ্যমে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

দলীয় গ্রুপে পদত্যাগের বার্তা

পদত্যাগের পর এনসিপির দলীয় গ্রুপে দেওয়া এক বার্তায় তাসনিম জারা লেখেন, গত দেড় বছরে দলের সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন এবং সেজন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য শুভকামনা জানান।

দলীয় সূত্র বলছে, তার এই বার্তা পাওয়ার পর এনসিপির ভেতরে আলোচনা শুরু হয়, তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ব্যাখ্যা

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাসনিম জারা তার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, খিলগাঁওয়ে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা এবং এলাকার মানুষের জন্য কাজ করাই তার রাজনৈতিক লক্ষ্য। শুরুতে কোনো রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে জনগণের সেবা করার স্বপ্ন দেখলেও বর্তমান বাস্তবতায় তিনি কোনো দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী বাস্তবতা বিবেচনায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথ বেছে নিয়েছেন।

দলীয় প্রার্থীর সুযোগ-সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

তাসনিম জারা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হলে দলীয় অফিস, সংগঠিত কর্মীবাহিনী এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকে। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এসব সুবিধা পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে তার একমাত্র শক্তি হবে এলাকার সাধারণ মানুষ। সততা, নিষ্ঠা এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই তিনি ভোটারদের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।

ভোটার স্বাক্ষর সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি প্রক্রিয়ার কথাও তুলে ধরেন তাসনিম জারা। তিনি জানান, ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে ৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দিতে হবে।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এত সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করা কঠিন হলেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা পেলে তা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক ও সহায়তাকারীদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ফান্ড ফেরতের ঘোষণা

এর আগে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের সময় যারা তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন, তাদের বিষয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন তাসনিম জারা। তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে কেউ অর্থ ফেরত নিতে চাইলে সেই সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি।

বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ফরম পূরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়াও জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজনৈতিক গুরুত্ব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাসনিম জারার পদত্যাগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-৯ আসনে এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from Desh TV

Next Post Previous Post

Advertisement