রোববার শপথ নিবেন নতুন প্রধান বিচারপতি
বাংলাদেশের বিচার বিভাগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে রোববার শপথ গ্রহণ করবেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সকাল ১০টায় বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শনিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
নিয়োগের প্রেক্ষাপট
গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক পদে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ের বিচারিক চ্যালেঞ্জ, মামলার জট এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশ্নে নতুন প্রধান বিচারপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
শিক্ষা ও পেশাগত জীবন
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (এলএলবি) ও স্নাতকোত্তর (এলএলএম) ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান এবং সেখানে আন্তর্জাতিক আইনে এলএলএম ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
আইন পেশায় তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৫ সালে জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে। পরে ১৯৮৭ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে সফলভাবে আইন পেশায় যুক্ত থাকার পর তিনি বিচার বিভাগে প্রবেশ করেন।
বিচার বিভাগে কর্মজীবন
২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর তাকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। হাইকোর্টে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনগত মামলায় রায় প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালনের সময় তার বিচারিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আইন অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা।
মেয়াদ ও প্রত্যাশা
বর্তমান বিধান অনুযায়ী বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০২৮ সালের ১৭ মে অবসরে যাবেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আইন সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, তার অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে দক্ষতা দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে সহায়ক হবে।
Source: Based on reporting from Supreme Court sources and national media
