ত্রয়োদশ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে: আদিলুর
ঢাকা, মাদারীপুর: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণভোটে অংশ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণ এবার স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতে যাচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মাদারীপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য নির্মাণাধীন একটি আবাসিক ভবন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ
আদিলুর রহমান খান বলেন, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল বলে অনেকের অভিযোগ রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। তার ভাষায়, “এবার জনগণ নিজের ভোট নিজে দেবে। সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং একই সঙ্গে জুলাই সনদ নিয়েও জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার একটি রাজনৈতিক বার্তা। বিশেষ করে গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্জনের রাজনীতি নয়, অংশগ্রহণের আহ্বান
নির্বাচন বর্জনের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, কোনো দেশপ্রেমিক নাগরিকই এই নির্বাচন বর্জন করবে না। তার মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণই হলো দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রমাণ। তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক শক্তি ও সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনে সমর্থন জানাবে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু গোষ্ঠী অন্তর্ঘাত বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। “বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করবে,”—বলেন তিনি।
নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতি
মাদারীপুরে প্রকল্প পরিদর্শনের সময় জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আল নোমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল কীর্তনিয়া, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আবু আহমদ ফিরোজ ইলিয়াস এবং উপজেলা প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, নির্বাচন ঘিরেও মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, লজিস্টিক সহায়তা এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় নির্বাচন সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্বাচন ব্যবস্থা, ভোটার উপস্থিতি এবং গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একজন উপদেষ্টার কাছ থেকে উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা আসা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি শক্তিশালী করবে।
শেষ কথা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হলেও বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের আস্থা অর্জন, সহিংসতা রোধ এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলেই এই নির্বাচন সত্যিকার অর্থে উৎসবমুখর হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
