ঝিনাইদহ-১ আসনে অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা গতি পাচ্ছে। এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুরে শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্রটি সংগ্রহ করা হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবাশীষ অধিকারীর কাছ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণের মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি
মনোনয়নপত্র সংগ্রহকালে শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, উপদেষ্টা আব্দুল বারি মোল্লা, সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল জোয়ার্দ্দার ও রাকিবুল ইসলাম দিপু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন মোল্লাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
নেতাকর্মীরা জানান, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং শৈলকূপা উপজেলাজুড়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা হবে।
আসাদুজ্জামানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ-১ আসনের রাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম। তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও সে নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে পারেননি, তবে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতি রয়েছে বলে দলীয় নেতাদের দাবি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর ভূমিকা আরও আলোচনায় আসে। চব্বিশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে আরও দৃশ্যমান করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঝিনাইদহ-১ আসনের ভোটার চিত্র
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) সংসদীয় আসনটি একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৩ হাজার এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ২৭৮ জন।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান—এসব বিষয় সাধারণত এই আসনের ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে আসে।
নির্বাচনী সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আসাদুজ্জামানের বর্তমান দায়িত্ব এবং পূর্বের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়ন ও অন্যান্য দলের কৌশলের ওপরই নির্ভর করবে নির্বাচনের সমীকরণ।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বিএনপি যে ঝিনাইদহ-১ আসনে গুরুত্ব দিচ্ছে, তা স্পষ্ট। আগামী দিনে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা ও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে এই আসনের রাজনৈতিক চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
