যে কারণে গ্রেপ্তার হলেন ‘সমন্বয়ক’ সুরভী

ব্ল্যাকমেইল, ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং সংঘবদ্ধ প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত তরুণী তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, একাধিক মামলার তদন্ত ও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে বিপুল অর্থ আদায়ের অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন সুরভী—এমনটাই দাবি তদন্ত সংশ্লিষ্টদের।

যে অভিযোগে গ্রেপ্তার

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে একই কৌশলে অর্থ আদায় করছিল। প্রথমে গ্রেপ্তার বা গুরুতর মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো। পরে ‘সমঝোতা’র প্রস্তাব দিয়ে ধাপে ধাপে টাকা আদায় করা ছিল তাদের মূল কৌশল।

পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন অডিও, ভিডিও ও লিখিত আলাপ বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে এই কর্মকাণ্ডে সুরভীর সরাসরি ভূমিকা রয়েছে।

আগের মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

পুলিশ জানিয়েছে, কালিয়াকৈর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। ওই মামলায় অপহরণ, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী একজন সংবাদকর্মী, নাইমুর রহমান দুর্জয়।

এছাড়া তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতীতেও এই চক্র বিভিন্ন ব্যক্তিকে হত্যা মামলা কিংবা রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে কয়েক কোটি টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূমিকা

পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, তাহরিমা জান্নাত সুরভী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উসকানিমূলক ও আপত্তিকর বক্তব্য দিতেন। এমনকি সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড সামাজিক অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানান, বিশেষ করে গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত আন্দোলন ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। গুলশান ও বাড্ডা এলাকার একাধিক ঘটনায় এই কৌশল প্রয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

‘সমন্বয়ক’ পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট

তাহরিমা জান্নাত সুরভী নিজেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ও ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। লাইভ ভিডিও, বিতর্কিত মন্তব্য এবং পরিকল্পিত অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিচিতি ও জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করেই তিনি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতেন এবং পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত হতেন—এমন অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে।

পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া

গ্রেপ্তারের পর তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। মামলার তদন্ত এখনও চলমান এবং প্রয়োজনে আরও আসামিকে আইনের আওতায় আনা হতে পারে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next Post Previous Post

Advertisement