ভারতে পালানোর সময় নাশকতা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা আটক

ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে নাশকতা মামলার এক আসামিকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। আটক ব্যক্তি রাসেল পাঠান, যিনি ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক বলে পরিচয় দিয়েছেন। সীমান্তে কড়াকড়ি নজরদারির মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে পাসপোর্ট যাচাইয়ের সময় তাকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ইমিগ্রেশন সার্ভারের স্টপলিস্টে নাম থাকায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাসেল পাঠান ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেনাপোল চেকপোস্টে হাজির হন। নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন ডেস্কে পাসপোর্ট জমা দিলে যাচাইকালে তার নাম স্টপলিস্টে পাওয়া যায়। এরপরই তাকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।

স্টপলিস্টে নাম, দুই নাশকতা মামলা

জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল পাঠান নিজেকে ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা দুটি নাশকতার মামলা রয়েছে। এসব মামলার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন তিনি, যার ফলেই ইমিগ্রেশন সার্ভারে তার নাম স্টপলিস্টে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আটক রাসেল পাঠান ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সংকিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আবদুর রাজ্জাক পাঠানের ছেলে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ইমিগ্রেশন পুলিশের বক্তব্য

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ইমিগ্রেশন সার্ভারে স্টপলিস্টে নাম থাকায় ময়মনসিংহের এক যুবলীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে। যাচাই শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”

ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্র আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নাশকতার মামলার আসামিদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বেনাপোলসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরগুলোতে স্টপলিস্ট যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।

পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাসেল পাঠানকে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়। সেখান থেকে তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের পরবর্তী আদেশ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্টপলিস্ট কার্যকরভাবে প্রয়োগ হওয়ায় পলাতক বা মামলার আসামিদের দেশত্যাগ ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে। এতে বিচারিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হচ্ছে এবং মামলার তদন্তে গতি আসছে।

স্থানীয় ও জাতীয় প্রেক্ষাপট

বেনাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক চেকপোস্টগুলোর একটি। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই পথ ব্যবহার করে ভারতে যাতায়াত করেন। ফলে এখানে ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। রাজনৈতিক সহিংসতা ও নাশকতার মামলার আসামি আটকের ঘটনা স্থানীয়ভাবে যেমন আলোচনার সৃষ্টি করেছে, তেমনি জাতীয় পর্যায়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা অব্যাহত থাকলে অপরাধে জড়িতদের পলায়ন রোধ করা আরও সহজ হবে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next Post Previous Post

Advertisement