নির্বাচন পেছাতে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে : এ্যানি
লক্ষ্মীপুরে এক বিএনপি নেতার বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, যারা নির্বাচন পেছাতে চায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে আগ্রহী, তারাই এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) আসর নামাজ শেষে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের সূতারগোপ্তা বাজার জামে মসজিদে আয়োজিত এক মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয় অগ্নিকাণ্ডে নিহত শিশু আয়েশা আক্তার বিনতি (৮)-এর আত্মার মাগফিরাত কামনায়। একই সঙ্গে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা বেলাল হোসেন ও তার বড় মেয়ে সালমা আক্তার স্মৃতি (১৭)-এর সুস্থতা কামনায় দোয়া করা হয়।
নির্বাচন নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান
এ্যানি বলেন, আসন্ন নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয় নয়; এই নির্বাচনের সঙ্গে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী সমাজ এবং দেশের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ জড়িত। তিনি সতর্ক করে বলেন, “কোনোভাবেই যেন এই নির্বাচন কেউ পেছাতে না পারে। আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তার বক্তব্যে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতা, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সামনে আসছে, যা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, বেলাল হোসেনের পরিবারকে একা ফেলে দেওয়া যাবে না। তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া, সহানুভূতি দেখানো এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বেলালের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখার কথা বলেন।
এ্যানি আরও বলেন, “আমি আগেও ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। এই পরিবারের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, দল হিসেবে আমরা তা করব।”
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ও বর্তমান অবস্থা
স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গভীর রাতে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেনের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। আগুনে ঘটনাস্থলেই মারা যায় তার ছোট মেয়ে আয়েশা আক্তার বিনতি।
এ ঘটনায় বেলাল হোসেন এবং তার দুই মেয়ে—স্মৃতি ও সামিয়া আক্তার বিথি (১৪)—গুরুতর দগ্ধ হন। স্মৃতি শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বেলাল হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আর চিকিৎসা শেষে বিথি বর্তমানে পরিবারের কাছে রয়েছে।
স্থানীয় ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মিলাদ মাহফিলে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা আর না ঘটে।
উপসংহার
লক্ষ্মীপুরের এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতার ঝুঁকিও সামনে এনেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের জবাবদিহি এবং নির্বাচন ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
