সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানের চার সেনা নিহত

পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় দেশটির চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে ইসলামাবাদ। ঘটনার জেরে আফগানিস্তানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সেনাবাহিনীর একটি স্থাপনায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানি সেনা সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ও কয়েকজন সশস্ত্র হামলাকারী একযোগে সেনা ক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা করে।

যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটে

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, হামলাকারীরা ক্যাম্পে ঢোকার আগেই দায়িত্বে থাকা সেনারা তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এ সময় বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের হামলায় চারজন সেনা সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

এরপর সেনা সদস্যদের সঙ্গে হামলাকারীদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তীব্র গোলাগুলি চলে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত পাঁচজন সন্ত্রাসী নিহত হন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ।

পাকিস্তানের কড়া প্রতিক্রিয়া

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে ‘খারিজি গুল বাহাদুর গ্রুপ’-এর সন্ত্রাসীদের এই বর্বরোচিত হামলায় চারজন পাকিস্তানি সেনা শহিদ হয়েছেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে এবং আফগান সরকারের কাছে পাকিস্তানের কঠোর অবস্থান তুলে ধরতে ইসলামাবাদে অবস্থিত আফগান মিশনের উপ-প্রধানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে বলে জানানো হয়। পাকিস্তান দাবি করেছে, সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী তৎপরতা দেশটির নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

সীমান্ত এলাকায় সহিংসতা বাড়ছে

আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন উত্তর ওয়াজিরিস্তানসহ খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটছে। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মাসে এই হামলার মাত্রা ও ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো হামলায় পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের প্রাণ যাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব হামলার পেছনে সীমান্তের অপর পাশ থেকে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সহায়তা রয়েছে—এমন অভিযোগ বরাবরই করে আসছে ইসলামাবাদ।

পাল্টা অভিযান ও আঞ্চলিক প্রভাব

সন্ত্রাসী তৎপরতার জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান জোরদার করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, এসব অভিযানে জঙ্গিদের ঘাঁটি ধ্বংস করা হচ্ছে এবং তাদের চলাচল সীমিত করা সম্ভব হচ্ছে। তবে হামলা পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তানের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সন্ত্রাস দমনে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন।

পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ

উত্তর ওয়াজিরিস্তানের এই হামলা আবারও প্রমাণ করেছে যে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো এখনো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। চার সেনা সদস্যের মৃত্যু শুধু একটি সামরিক ক্ষতি নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি করেছে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement